ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা এবং তেঁতুলিয়া নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ফলে জেলেপাড়ায় দেখা দিয়েছে হতাশা। নদীতে ইলিশের এমন আকালের কারণে মৎস্য আড়ত ও হাট-বাজারে দাম আকাশচুম্বী। যার ফলে নিম্নআয়ের মানুষের কেউ কেউ বহু কষ্টে জাটকা ইলিশ কিনতে পারলেও বড় ইলিশ কেনা যেন তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন। কেউ তো আবার ইলিশের দাম শুনেই খালি হাতে ফিরছেন বাজার থেকে, আবার কেউ দাম বেশি হওয়ায় অন্য মাছ কিনছেন। নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এ যেন স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই পরিস্থিতি। অথচ ৫ থেকে ৭ বছর আগেও গ্রামের বাজারগুলোতে হাটের দিনে সারি সারি ইলিশ মাছের পসরা সাজিয়ে বসতেন বিক্রেতারা। উচ্চবিত্তশালীদের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তরাও কিনতেন পছন্দের ইলিশ। তখন দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় পছন্দ অনুযায়ী কেউ দু’টি, কেউ চারটি, আবার কেউ আরও বেশি পরিমাণে ইলিশ কিনতেন।
ইলিশের সাইজও ছিল মাঝারি এবং বড়। তবে বর্তমানে নদীতে ইলিশের পরিমাণ চরমভাবে কমে যাওয়ায় ইলিশ এখন হয়ে উঠছে বিলাসিতার প্রতীক। লালমোহনে ইলিশ বর্তমানে নিম্নআয়ের মানুষের কতোটা নাগালের বাইরে তা জানান মো. জাহাঙ্গীর নামে এক অটোরিকশাচালক। তিনি বলেন, গত এক বছর আগে ইলিশ কিনেছি, তাও জাটকা ইলিশ। এখন ওই জাটকার হালিই (চারটি) আটশত থেকে এক হাজার টাকা। বাচ্চারা ইলিশ খেতে পছন্দ করে। তাদের কথা ভেবে এর মধ্যে দুইবার বাজারে গিয়েছি ইলিশ কিনতে।
তবে দাম শুনে ইলিশ না কিনে বাজার থেকে অন্য মাছ কিনতে বাধ্য হয়েছি। মো. হারুন নামে পৌর শহরের ফুটপাথের এক ব্যাগের দোকানদার জানান, গত সপ্তাহখানেক আগে দুই হালি (আটটি) জাটকা ইলিশ কিনেছি আটশত টাকায়। মাছের সাইজ একেবারেই ছোট, আটটি মাছ হয়েছে এক কেজির মতো। বিক্রেতার কাছে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম জানতে চাইলে তিনি জানান, এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম দুই হাজার আটশত টাকা। আমাদের স্বাদ থাকলেও ওই বড় মাছ কেনার সাধ্য নাই। বড় ইলিশ এখন বড়লোকের মাছ। উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী সংলগ্ন নাজিরপুর মৎস্যঘাটের আড়তদার মো. জোবায়ের বলেন, জাটকা ইলিশ চারটিতে এক কেজি হয়- এমন মাছের দাম এখন ঘাটেই এক হাজার টাকার মতো। আর এক কেজি ওজনেরগুলো আড়াই হাজার টাকা। দেড় কেজি যে ইলিশের ওজন সেটির দাম সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো। গত কয়েক বছর ধরে নদীতে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় এমন দাম বেড়েছে। এ বছর জেলেরা নদীতে গিয়ে অনেক কম পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন।
যার জন্য এ বছর বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ইলিশের দাম বেশি। নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বাতিরখাল মৎস্যঘাটের জেলে মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান নিজের হতাশার কথা। তার ভাষ্যমতে, কয়েক বছর আগেও নদীতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ ইলিশ শিকার করেছেন তিনি। তখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোই ছিলেন। তবে এবার নদীতে ইলিশ নাই বললেই চলে। যার জন্য তেমন নদীতে নামছেন না তিনিসহ তার সঙ্গের অন্যান্য জেলেরা। কয়েকজন জেলে এরই মধ্যে কর্মের খোঁজে চলে গেছেন চট্টগ্রাম।
আর তিনি ডুবে আছেন দেনার সাগরে। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, এই উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৬ জন। তবে প্রকৃত জেলের সংখ্যা আরও বেশি। এসব জেলেরা উপজেলার ছোট বড় ২৭টির মতো মৎস্যঘাট দিয়ে মেঘনা এবং তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে নামেন। বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম। তবুও শুনছি জেলেরা নদীতে গিয়ে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না।
