চলতি মৌসুমেই ম্যানুয়ালি খুলছে পাথর কোয়ারি

চলতি মৌসুমেই ম্যানুয়ালি খুলছে পাথর কোয়ারি

ফন্ট সাইজ:

চলতি মৌসুমে ম্যানুয়ালি খুলতে যাচ্ছে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো। প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক পর সরকার কোয়ারি খুলে দেয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ এলাকা সিলেট-৪ আসনের এমপি এবং শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আমেরিকা সফর শেষে তিনি এখন পারিবারিক কাজে সিলেটে অবস্থান করছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে পাথর কোয়ারি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ওই কমিটি পর্যালোচনা করে ইতিমধ্যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি মৌসুমেই পাথর কোয়ারি ম্যানুয়ালি খুলতে যাচ্ছে। অনেক কোয়ারি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। অনেক মামলার গ্রাউন্ড তেমন শক্তিশালী নয়। ফলে সরকার আশাবাদী রায় পক্ষে আসবে। আদালতের রায় পক্ষে আসার পরদিন থেকে কোয়ারি খুলে দেয়ার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হওয়ার কারণে জাফলং পাথর কোয়ারি খুলতে নাও পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট এলাকায় ৭/৮টি পাথর কোয়ারি রয়েছে। এসব এলাকায় কোয়ারিকেন্দ্রিক অর্থনীতি বেশি। পাশাপাশি আছে আমদানি করা ভারতীয় পাথর। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিএনপি সরকার গঠনের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কোয়ারি না খুলে দেয়ায় অনেক ট্রল হয়েছে এমপি, মন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে। এর বাইরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েও পাথর লুট হয়েছে। ফলে কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবি দিন দিন জোরালো হয়ে ওঠে। শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর গতকালের ঘোষণায় স্বস্তি ফিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ ও উৎমা ছড়া কোয়ারি রয়েছে। পাথর লুটে শারপিন টিলাকেও কোয়ারি হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। তবে অবাধে লুটপাটের কারণে শারপিন টিলা এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সেটি নতুন করে ইজারা প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি, জাফলং, সংগ্রামপুঞ্জির সীমান্ত রেখায় কোয়ারি রয়েছে। জাফলং ইসিএভুক্ত হওয়ার কারণে ইজারা দেয়া হবে না। তবে সংগ্রাম পুঞ্জির সীমান্ত রেখার কোয়ারি ইজারা দেয়া হলে এর প্রভাব এসে পড়বে জাফলং কোয়ারিতে। ইতিমধ্যে সংগ্রামপুঞ্জির কাছাকাছি নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় গড়ে ওঠা পাথরের চর লুটপাট করা হয়েছে। ফলে সংগ্রামপুঞ্জির কাছাকাছি এলাকা কোয়ারি ঘোষণা করে ইজারা দেয়া হলে জাফলং রক্ষা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এরইমধ্যে হাজীপুর এলাকায় বালুমহাল লিজ দিয়ে ওই এলাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। জৈন্তাপুর উপজেলার রাংপানি, কানাইঘাটের লোভা পাথর কোয়ারি রয়েছে। এ দু’টি কোয়ারি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা। মামলাও রয়েছে আদালতে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকার এবার কোয়ারি ম্যানুয়ালি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে, ম্যানুয়ালি পাথর উত্তোলন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সিলেট অঞ্চলে প্রায় আড়াই দশক আগেও কোয়ারি এলাকায় ম্যানুয়ারি বালু ও পাথর আহরণ করা হতো।

এতে করে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। এরপর থেকে পানি অপসারণের জন্য লিস্টার মেশিনের অনুমতি দিয়ে বিশেষ এক ধরনের যন্ত্র দানব তৈরি করা হয়েছে। যেটি দিয়ে কোয়ারির নির্দিষ্ট এলাকা এর বাইরের তলদেশের পাথর উপরে তুলে নিয়ে আসা যায়। এটিকে স্থানীয়ভাবে ‘বোমা মেশিন’ বলা হয়ে থাকে। এই মেশিনের তাণ্ডবে গত আড়াই দশক তছনছ হয়ে গেছে কোয়ারি এলাকা। পরিবেশবাদীরা এই বোমা মেশিনের তাণ্ডবের কারণে কোয়ারি খুলে দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সে অবস্থানে তারা এখনো রয়েছেন।