নতুন বিমানবন্দর তৈরি করছে দুবাই। বিমানবন্দরটির বেশ কিছু অংশ মাটির নিচে তৈরির পরিকল্পনা করছে দেশটি। ভবিষ্যৎ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতেই তাদের এ পদক্ষেপ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লেও নিজেদের বহুল আলোচিত বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে পিছিয়ে আসছে না সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
দুবাই এয়ারপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পল গ্রিফিথস জানান, প্রস্তাবিত নতুন মেগা বিমানবন্দরের নকশায় জ্বালানি ট্যাংকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অবকাঠামোগুলো ভূগর্ভস্থ বা মাটির নিচে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ হামলা মোকাবিলার উপযোগী করে পুরো স্থাপনাকে আরও বেশি নিরাপদ ও টেকসই করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে বছরে ২৫ কোটি যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই মেগা বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প কোনোভাবেই সংকুচিত বা বাতিল করা হবে না বলে তিনি জানান।
গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ওই সংঘাতের সময় দুবাইয়ের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির (ডিএক্সবি) খোলা স্থানে থাকা জ্বালানি ট্যাংকে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানে। ওই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে যাত্রীদের দ্রুত ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।
সংঘাতের প্রভাবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পায়। ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৭৪ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করলেও মার্চ মাসে তা নাটকীয়ভাবে নেমে আসে মাত্র ২৫ লাখে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং জুলাই নাগাদ যাত্রী সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬৩ লাখে পৌঁছেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে, আগামী বছরের শুরুর দিকে তারা পুরোপুরি আগের অবস্থানে ফিরে আসবে এবং পুনরায় বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করবে।
