গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র্যাবের প্রায় সবই থাকছে আইনে। প্রথম আলোর শিরোনাম। এতে বলা হয়, বিরোধী দলের আপত্তির মুখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব বিলুপ্ত করে বিলটি সংসদে পাস হয়।
বিল পাসের আলোচনায় বিরোধী দল বলেছে, এই আইনের মধ্য দিয়ে শুধু র্যাবের ‘সাইনবোর্ড’ বদল হচ্ছে। এটি নতুন বোতলে পুরোনো মদ। র্যাব সামনে আসছে এসআরবির মোড়কে।
অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে র্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে। র্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই।
এসআরবি বিলে বলা হয়েছে—র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্রসহ সব দলিল এসআরবির কাছে স্থানান্তর হবে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আগের কাঠামো ঠিক রেখে যেভাবে বিল পাস হলো, তাতে কাগজে-কলমেই শুধু র্যাবের নাম বিলুপ্ত হবে।
২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। নানা কর্মকাণ্ডে বাহিনীটি সমালোচিত হয়। গতকাল সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে নতুন এপিবিএন আইন করতে আরেকটি বিলও পাস হয়েছে।
র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব এবং বাহিনীটির তৎকালীন ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব বিলুপ্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় বর্তমান সরকার। তবে র্যাব বিলুপ্ত করে একই কাঠামোতে এসআরবি গঠনে মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া পাস হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন। বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিরোধী দলের আপত্তিগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর বিলটি সংসদে পাস হয়।
জনবল থেকে দায়চুক্তি, সবই স্থানান্তর
এসআরবি বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। সরকারের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পুলিশ, শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটের কর্মকর্তা বা আর্মড পারসোনেল বা কর্মচারীদের পদবিন্যাস, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। ইউনিটের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত একটি পতাকা, প্রতীক ও সুনির্দিষ্ট পোশাক থাকবে। এসআরবির মহাপরিচালক হবেন পুলিশে কর্মরত একজন অন্যূন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক।
র্যাবের কাঠামো নিয়ে সমালোচনার অন্যতম প্রধান জায়গা ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও মানবাধিকারকর্মীরা নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করা হলে তা শুধু প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এসআরবিতে পুলিশের বাইরে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রেষণ বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ‘শৃঙ্খলা বাহিনী’র সংজ্ঞায় সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ থাকায় সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) সদস্যদেরও এসআরবিতে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
নতুন আইনে বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ২০০৫ সালের বিধিমালায় র্যাবসংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারা বহাল থাকবে। এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রাখা হয়েছে।
বিরোধী দলের আপত্তি
বিলের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই বাহিনীর বিলুপ্তি ছিল সবার দাবি। বেগম খালেদা জিয়াও বারবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথা বলেছে। এটা বিলুপ্ত করে আরেকটা বাহিনী গঠনের দাবি কারোরই ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে সরকারি তরফ থেকে ঠিক একই ধরনের আরেকটা বাহিনী বিল্ড আপ করার দাবি নিয়ে আসা শুধু হয়নি, হুবহু বাহিনীটাকে জায়গায় রেখে সবকিছু জায়গায় রেখে, একটা প্রস্তাবনা নিয়ে আসা হয়েছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই আইনটা কোনো অবস্থাতেই পাস করা উচিত নয়। আইনটা ফিরিয়ে নেওয়া দরকার।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, র্যাব নিয়ে তাঁদের আতঙ্ক আছে। এই বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, গুমে একটা নতুন মাত্রা যোগ করছে। এ ধরনের একটা বিল তড়িঘড়ি করে মাত্র চার কর্মদিবসের মধ্যে পাস করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনা তুলে ধরে বিরোধী দলের সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, সে ঘটনার পরে র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যা দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি র্যাবের বিলুপ্তির দাবি জানান। ২০১৯ সালে তিনি র্যাবকে ‘ক্যানসার’ আখ্যায়িত করেছিলেন।
নাজিবুর রহমান বলেন, বিলের ২৭ ধারায় বলা হয়েছে, র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি, দায়দায়িত্ব সরাসরি এসআরবি নামের নতুন বাহিনীর কাছে চলে যাবে। অর্থাৎ শুধু সাইনবোর্ডটাই পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন বোতলে পুরোনো মদ। র্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছু পরিবর্তন হচ্ছে না। এতে গুমের অপরাধসহ অনেক অপরাধের মামলা এবং তদন্ত ত্রুটির মুখে পড়বে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল র্যাব বিলুপ্ত করা, সেটা করা হচ্ছে। এই বিল যতই বিলম্বিত হবে, র্যাবের অস্তিত্ব ঠিকই রয়ে যাবে, র্যাবই রয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিলটি সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ছিল। বিভিন্ন মতামত এসেছে। এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে র্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
র্যাবের সম্পদ এসআরবিতে হস্তান্তরের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এত অস্ত্রশস্ত্র, এত ইকুইপমেন্ট (সরঞ্জাম), এত ইন্টেলিজেন্স ইকুইপমেন্ট, এত সম্পদ, এগুলো কোথায় যাবে? কোথাও না কোথাও তো যাবে। নতুন বাহিনীর কাছে গেলে আর এসব কেনাকাটার প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে।
বহু বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয় উল্লেখ করে মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সেনা, নৌ, বিমানসহ বিভিন্ন বাহিনীর সংমিশ্রণে আরেকটি বাহিনী গঠনের বিরোধিতা করেছিলাম। প্রয়োজন হলে পুলিশের মধ্য থেকেই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা যেত। তাদের আধুনিক অস্ত্র ও উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে জনসেবায় নিয়োজিত করা যেত।’
এপিবিএন পাবে তদন্তের ক্ষমতা
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইন প্রতিপালন সাপেক্ষে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দকরণ ও গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, এই ইউনিটের কোনো সদস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সংবাদপত্রে কোনো প্রকার তথ্য বা অন্য প্রকার দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না বা প্রকাশে সহযোগিতা করতে পারবেন না বা প্রকাশ করার কারণ হবেন না।
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী আজ-বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, রায়ের অপেক্ষায় স্বজনরা। এটি ইত্তেফাকের শিরোনাম। এতে বলা হয়, ২৫ বছর এক দীর্ঘ সময়। অনেকের স্মৃতি থেকে সেই ভয়াবহতার রেশ কিছুটা ম্লান হয়ে এসেছে এবং পরবর্তী ঘটনাবলি ইতিহাসের পাতায় অস্পষ্ট হয়ে মিশে গেছে। ৯/১১-এর ঘটনায় বাবাকে হারানোর পর যেসব সন্তানের জন্ম হয়েছিল, তারা আজ বড় হয়েছে; পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে এবং সংসার জীবন শুরু করেছে। শোকাতুর অনেক বাবা-মা, জীবনসঙ্গী ও বন্ধু-বান্ধবও ইতিমধ্যে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায়ও নিয়েছেন।
আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন। ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা ধরা পড়েছে। আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ হয়েছে। ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ গঠিত হয়েছে। বিশ্ব জুড়ে গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। ম্যানহাটান পুনর্নির্িমত হয়েছে এবং সেই পবিত্র ভূমিতে এখন দাঁড়িয়ে আছে ৯/১১ স্মৃতিসৌধ। কিন্তু কারো কারো কাছে এই দিনটির স্মৃতি মানেই এক গভীর শোক ও অপূরণীয় ক্ষতির অনুভূতি। আবার অনেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে মূলত ইতিহাসের পাঠ থেকেই জেনেছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে হামলা বিশ্বকে বদলে দিয়েছিল, তা মানুষের জীবনকেও বদলে দিয়েছিল।
এরই মধ্যে প্রকাশ হতে শুরু করেছে নানা নথি। এতদিন প্রকাশিত না হওয়ায় অনেকেই এখন বিস্মিত। নানা আয়োজনে আজ ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী মানুষগুলো স্মরণ করবে নিহতদের এবং ঘৃণা জানাবে হামলাকারীদের প্রতি।
প্রকাশ হচ্ছে বিভিন্ন নথি: ১১ সেপ্টেম্বর নৃশংস হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন নথি প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবমুক্ত করা এই ১ লাভ ৭৩ হাজার পৃষ্ঠারও বেশি নথিতে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে এসেছে। যেমন বিষাক্ত বাতাস নিয়ে লুকোচুরি করা হয়েছে। নথিগুলো থেকে স্পষ্ট জানা যায়, হামলার পর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা ‘গ্রাউন্ড জিরো’ এলাকার বাতাস শ্বাস নেওয়ার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ছিল। তত্কালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানি ও পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার আশ্বাসের বিপরীতে গিয়ে গোপন দাপ্তরিক নথিতে স্বীকার করা হয়েছিল যে, সেখানে বিষাক্ত অ্যাসবেস্টস ও সিসার দূষণ অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রায় ছিল। কিন্তু সেটি গোপন রাখা হয়েছিল। এর ফলে পরবর্তীতে হাজার হাজার মানুষ ক্যানসার, অ্যাজমা ও দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হন। ২৫ বছরের ব্যবধানে এই বিষাক্ত বাতাসের প্রভাবে সৃষ্ট অসুস্থতায় ইতিমধ্যে হামলার দিনের চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে যে হামলার এক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউজকে আল কায়দা নিয়ে সতর্ক করা হলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আবার এই হামলার সঙ্গে এক সৌদি নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিকেও চেপে যাওয়া হয়েছে।
বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, অপেক্ষা স্বজনদের: গত মাসে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীর আগে মামলায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা যায়। খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার ২০২৮ সালের জুনে শুরু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অনেকে এখনো আশাবাদী হতে পারছেন না। তাদের আশঙ্কা, আবার কোনো কারণে বিচার পিছিয়ে যেতে পারে। রেসতা নামের একজন জানান, তার বাবা আগামী নভেম্বরে ৯৮ বছরে পা দেবেন। তাই বিচার শুরুর দিনটি দেখার মতো সময় তার বাবার হাতে থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। রেসতার আরেকটি দুশ্চিন্তা হলো, বিচার শুরু হওয়ার সময় অভিযুক্তরা আদৌ জীবিত থাকবেন কি না।
৯/১১ হামলায় ছোট ভাই রালফকে হারানো স্টিফান গেরহার্টও বহু বছর ধরে এই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের হত্যার জন্য অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত হতে দেখা তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এখন তার ভাইয়ের স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে থাকতে চান। গেরহার্টের সবচেয়ে বড় ভয়, অভিযুক্তরা বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। তিনি চান না তারা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই মারা যান। তার মতে, হামলার জন্য এসব মানুষকে আটক করার পরও যদি তাদের বিচার না হয়, তাহলে নিহতদের পরিবারের প্রতি সেটি হবে আরেকটি অবিচার।
নির্যাতনেই আটকে আছে বিচার: খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২ হাজার ৯৭৬ জন নিহতের নাম রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনিই বাণিজ্যিক বিমানের চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিমান ভবনের ওপর আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন এবং সেই পরিকল্পনা আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিয়ে যান। খালিদ শেখ মোহাম্মদ এর আগে দাবি করেছিলেন, তিনি ৯/১১-এর পুরো পরিকল্পনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করেছিলেন। তবে মামলার সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে তাকে এবং তার সহযোগীদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি নিয়ে। বিচার শুরুর তারিখ ঘোষণার কয়েক দিন পর সামরিক বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার গোপন কারাগারে আটকে থাকার পর গুয়ানতানামোতে এফবিআই কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া মোহাম্মদের স্বীকারোক্তি বাতিল করে দেন। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন কারাগারগুলোতে মোহাম্মদের ওপর যে আচরণ করা হয়েছিল, তা ছিল ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে। ফলে তার স্বীকারোক্তিগুলো স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি এবং সেগুলো বিচারে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
নানা আয়োজনে পালিত হবে দিবসটি :২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ায় আল-কায়েদার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর (রজত জয়ন্তী) পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২৫ বছর পূর্তির এই মাইলফলকটি স্মরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব জুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন শোক ও শ্রদ্ধাসভা এবং বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। হামলার মূল তিনটি স্থানে ঐতিহ্যবাহী ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ বার্ষিক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাউন্ড জিরো, নিউইয়র্কে (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার) স্থানীয় সময় আজ সকালে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও প্রথম সাড়াদানকারীরা এখানে সমবেত হবেন। প্রথা অনুযায়ী প্রতিবারের মতো নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জন মানুষের নাম একে একে পাঠ করা হবে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে প্রথম বিমান হামলার সময়ে প্রথম নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং এবার হামলায় পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে একটি নতুন ‘সপ্তম নীরবতা মুহূর্ত’ যোগ করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠের শিরোনাম- এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার। এতে বলা হয়, এক বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। গত বছর আগস্ট শেষে রিজার্ভ ছিল ২৯.৭৯ বিলিয়ন ডলার; চলতি বছরের আগস্ট শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৪০ বিলিয়ন ডলারে।
এই সময়ে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২৫.৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কারণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট আমদানি হয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের। সেই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৬.২৫ বিলিয়ন ডলার।
আর আগস্ট শেষে দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭.৪০ বিলিয়ন ডলারে। এই রিজার্ভকে মাসিক গড় আমদানি ব্যয় দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় প্রায় ৫.৯৮ মাস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই শেষে রিজার্ভ ছিল ২৯.৭৯ বিলিয়ন ডলার। আগস্টে তা বেড়ে ৩১.১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বিস্ফোরণ। নয়াদিগন্তের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম। এতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতের সঙ্কট এখন আর কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক বা বিচ্ছিন্ন কিছু ঋণখেলাপির সমস্যা নয়। বিপুল খেলাপি ঋণ, সম্পদের মানের ভয়াবহ অবনতি, প্রভিশন ঘাটতি, মূলধনের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স- সব মিলিয়ে ব্যাংকিং খাতের সঙ্কট এখন কাঠামোগত রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ জুন ২০২৬-এর শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে এর ভয়াবহ চিত্রই সামনে আসে।
তথ্যানুযায়ী দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ ছয় লাখ ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা; অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এখন শ্রেণিকৃত।
আরো উদ্বেগজনক হচ্ছে শ্রেণিকৃত ঋণের গঠন। এর মধ্যে মন্দ ও তিজনক ঋণ পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৭ কোটি টাকা; অর্থাৎ মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ৩০ দশমিক ৯১ শতাংশ এমন পর্যায়ে রয়েছে, যেগুলোকে মন্দ বা তিজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কিন্তু সঙ্কটের সবচেয়ে বড় দিক হলো এর কেন্দ্রীভবন। দেশের মোট কুঋণের পাঁচ লাখ ৩২ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা রয়েছে মাত্র ২০টি ব্যাংকে; অর্থাৎ মোট কুঋণের ৯৩ দশমিক ১০ শতাংশই শীর্ষ ২০ ব্যাংকের দখলে।
এ চিত্র শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণের ভয়াবহতাই প্রকাশ করছে না; বরং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার কোথায়, কিভাবে এবং কোন ধরনের ঋণ বিতরণে বড় ধরনের ব্যর্থতা হয়েছে- সে প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
১৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণে শ্রেণিকৃত ৬ লাখ কোটি
৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিয়মিত ঋণ ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বিপরীতে খেলাপি ঋণ ছয় লাখ ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।
কাজে আসছে না পদক্ষেপ সংকট কাটছে না সারের। আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এতে বলা হয়, সরকারি হিসাবে মজুত যথেষ্ট । শুধু হিসাবের খাতায় নয় , গুদামেও পর্যাপ্ত সার আছে । কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে । তবু বাস্তবে অনেক জায়গায় কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না । কোথাও তো বিক্ষোভ ছাড়াও রীতিমতো লুটের মতো তুলকালাম চলেছে । পর্যবেক্ষকদের কথায় , সরকারের তথ্য আর মাঠের চিত্রে মিল নেই । তাঁদের যুক্তি , পর্যাপ্ত সার থাকলে মাঠের পরিস্থিতি এমন হতো না । আর সংকট যদি কৃত্রিমই হয়ে থাকে , তাহলে ত্রুটি সরকারের ব্যবস্থাপনায় । আর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও শীর্ষ কৃষি কর্মকর্তার অভিযোগ , এ জন্য পতিত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের ডিলারসহ অসাধু মহলের অপতৎপরতা দায়ী ।
বরাদ্দ বাড়লেও হাহাকার বরাদ্দ বাড়লেও দেশের বিভিন্ন অংশে চলতি আমন মৌসুমে প্রয়োজনমতো সার না পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে । কুড়িগ্রামে একের পর এক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে । গত সোমবার রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় ডিলার পয়েন্ট ভাঙচুর করা হয়েছে । ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন , সারের অভাব না থাকলেও বেলা ১১ টায়ও বিতরণ শুরু না হওয়ায় ভোররাত থেকে অপেক্ষমাণ কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন । তাঁদের মধ্যে অনেকে গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট করেন । একই দিন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড়া এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয় । কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে , গত বছরের তুলনায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় বিভিন্ন সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ।
ঢাবির হল ক্যান্টিনে গ্যাসের বদলে লাকড়ি বাড়ছে খাবারের খরচ। আগামীর সময়ের একটি খবর। এতে বলা হয়, দুপুরের খাবারের অপেক্ষায় ক্যান্টিনে বসে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আসছে না খাবার। কোথাও আবার আগের মতো মিলছে না পছন্দের পদ, থাকছে না নাশতার আইটেমও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ক্যান্টিনে গ্যাস সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে লাকড়ি। ফলে খাবারের মান, পদসংখ্যা ও পরিবেশনের সময়— সবকিছুর ওপর পড়েছে গ্যাস সংকটের প্রভাব। বাড়তি জ্বালানি খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ার আশঙ্কা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের ক্যান্টিন ও ডাইনিং ঘুরে এবং ক্যান্টিন পরিচালক, শিক্ষার্থী ও ডাকসু নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক ক্যান্টিনে রান্না করা যাচ্ছে না স্বাভাবিকভাবে।
প্রতিদিন দুই-তিন মণ লাকড়ি: বিজয় একাত্তর ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ক্যান্টিন মালিক তৌহিদ জানালেন, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস না থাকায় প্রতিদিন রান্না করতে লাগছে দুই থেকে তিন মণ লাকড়ি। এতে মাসে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা।
তৌহিদ বলছিলেন, ‘মাসে অতিরিক্ত যে টাকা লাকড়ি কিনতে ব্যয় হচ্ছে, তা খাবারের মান উন্নয়নে ব্যয় করা গেলে খাবারের মান আরও ভালো করা সম্ভব হতো। লাকড়িতে রান্নার কারণে খাবার পরিবেশনেও দেরি হচ্ছে। গ্যাস দিয়ে যে ভাত আধা ঘণ্টায় রান্না করা যেত, লাকড়ি দিয়ে এখন তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগছে।’
একাধিক ক্যান্টিন পরিচালকের আশঙ্কা, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে আরও বাড়বে পরিচালন ব্যয়। বর্তমানে লাকড়ি কিনতে যে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বহন করা তাদের জন্য কঠিন। ফলে খাবারের দাম সমন্বয় করতে হতে পারে। অন্যথায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও দাবি তাদের।
বাড়তি খরচের চাপ শিক্ষার্থীদের ওপর: ক্যান্টিন পরিচালকদের বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। তাদের অভিযোগ, লাকড়িতে রান্নার কারণে খাবারের মান নেই আগের মতো। রান্নায় বেশি সময় লাগায় নির্ধারিত সময়েও পাওয়া যাচ্ছে না খাবার।
গ্যাসের অপ্রতুলতায় ক্যান্টিনগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে লাকড়ি কিনতে হচ্ছে। এই বাড়তি খরচ ক্যান্টিন মালিকরা নিজেদের পকেট থেকে দেবেন না উল্লেখ করে জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেনের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত খাবারের দাম বাড়িয়ে এর চাপ পড়বে শিক্ষার্থীদের ওপরই।
এই হলের ভিপি মাহবুব তালুকদারের মতে, জ্বালানি সংকটের পুরো চাপ শিক্ষার্থীদের ওপর না দিয়ে সংকটকালীন ক্যান্টিনগুলোকে সাময়িক জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়া উচিত প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এভাবে চললে ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারবেন না তারা।
আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘কাজে আসছে না পদক্ষেপ সংকট কাটছে না সারের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সার সংকট সাইফুল মাসুম , ঢাকা সরকারি হিসাবে মজুত যথেষ্ট । শুধু হিসাবের খাতায় নয় , গুদামেও পর্যাপ্ত সার আছে । কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে । তবু বাস্তবে অনেক জায়গায় কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না । কোথাও তো বিক্ষোভ ছাড়াও রীতিমতো লুটের মতো তুলকালাম চলেছে । পর্যবেক্ষকদের কথায় , সরকারের তথ্য আর মাঠের চিত্রে মিল নেই । তাঁদের যুক্তি , পর্যাপ্ত সার থাকলে মাঠের পরিস্থিতি এমন হতো না । আর সংকট যদি কৃত্রিমই হয়ে থাকে , তাহলে ত্রুটি সরকারের ব্যবস্থাপনায় । আর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও শীর্ষ কৃষি কর্মকর্তার অভিযোগ , এ জন্য পতিত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের ডিলারসহ অসাধু মহলের অপতৎপরতা দায়ী ।
বরাদ্দ বাড়লেও হাহাকার বরাদ্দ বাড়লেও দেশের বিভিন্ন অংশে চলতি আমন মৌসুমে প্রয়োজনমতো সার না পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে । কুড়িগ্রামে একের পর এক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে । গত সোমবার রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় ডিলার পয়েন্ট ভাঙচুর করা হয়েছে । ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন , সারের অভাব না থাকলেও বেলা ১১ টায়ও বিতরণ শুরু না হওয়ায় ভোররাত থেকে অপেক্ষমাণ কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন । তাঁদের মধ্যে অনেকে গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট করেন । একই দিন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড়া এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয় । কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে , গত বছরের তুলনায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় বিভিন্ন সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ।
সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নতুন ‘ সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সমন্বিত নীতিমালা -২০২৬ ‘ করা হয়েছে । কৃত্রিম সারের সংকট যেন তৈরি না হয় , সে জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে । প্রত্যেক জেলায় সার ব্যবস্থাপনায় আলাদা ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে । ৬৪ টি জেলাতেই সার্বক্ষণিক সার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে । ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম বা অতিরিক্ত দাম রাখার প্রমাণ পাওয়া গেলে সরাসরি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ টিম সক্রিয় করা হয়েছে । অভিযোগের সত্যতা মিললে তাৎক্ষণিক ডিলারশিপ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে । সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ( ডিএই ) মহাপরিচালক মো . আব্দুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন , “ সারা দেশে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে । কিছু জায়গায় স্বার্থান্বেষী মহল বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটাচ্ছে । এসব ঘটনায় অনেক অসাধু ডিলারও জড়িত রয়েছে । তাদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী কাজ করছে । অনিয়মে জড়িত অনেক সার ব্যবসায়ীর ডিলারশিপ বাতিল এবং জেল - জরিমানার মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে । ‘
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘দুই দেশেই নতুন বাস্তবতা ও চাপ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গঙ্গার পানি বণ্টনের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনটি এগিয়ে আসছে। একই সঙ্গে ভারতে নদীটির অববাহিকায় অবস্থিত বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্য উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলো চুক্তিবিরোধী তৎপরতা বাড়াচ্ছে। উজানের দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও এ বিষয়টিতে যুক্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, বর্তমান চুক্তি হুবহু নবায়নের পরিবর্তে পর্যালোচনা এবং পানি প্রবাহের নিশ্চয়তার জন্য সুরক্ষা-ধারা ফেরানোর দাবি উঠছে বাংলাদেশে। সরকার অবশ্য জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কথা বলছে। তবে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুরু হয়নি। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের জন্য স্বাক্ষর হওয়া চুক্তিটির মেয়াদ আগামী ১১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত এ বিষয়ে বলেন, ‘বিহার উদ্বেগ জানানোর কে? আমাদের আলোচনা দিল্লির সঙ্গে। বিহারের সঙ্গে নয়।’ তিনি বলেন, ‘পানি তো নিয়ে যাচ্ছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ। এখানে আমাদের চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর কী আছে?’ বিষয়টি ‘রাজনৈতিক’ হওয়ায় তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি নন বলে জানান।
দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টনচুক্তি অনুযায়ী গঙ্গায় পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত ফারাক্কা বাঁধে যে পানি আসে, তা দুই দেশের মধ্যে বণ্টন হওয়ার কথা। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ এমনিতেই তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তাই চুক্তিতে বর্ণিত ফর্মুলা অনুযায়ী প্রধানত প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কায় ও বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পানি পরিমাপ করা হয়।
সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘খাতা পুনর্মূল্যায়ন, ফলাফলে বড় পরিবর্তন, ৩০৭৯ জিপিএ ৫।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে খাতা নতুন করে দেখার পর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৫৬ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তন এসেছে।
চার হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। এর মধ্যে নতুন করে তিন হাজার ৭৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে কোনো বছর পুনর্নিরীক্ষণে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেনি। এবারই ফলে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন ধরা পড়েছে।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোথাও সঠিক উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়নি। কোথাও উত্তর মূল্যায়নই করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাতার ভেতরে দেওয়া নম্বর মূল নম্বরপত্রে সঠিকভাবে তোলা হয়নি। সঠিক উত্তরকে ভুল ধরে নম্বর না দেওয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে।
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনেও সরকারি ধান-চাল সংগ্রহে পর্যাপ্ত সুবিধা পান না কৃষক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি সংগ্রহের বড় অংশ চালকল মালিকদের মাধ্যমে হওয়া, কৃষকের তালিকা ও কোটায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, ধানের আর্দ্রতা ও অন্যান্য মানদণ্ডে ক্ষুদ্র কৃষকের বাদ পড়ার বিস্তর অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি ওঠে। কিন্তু সরকারি ধান সংগ্রহে কৃষকের অভিযোগ ছিল সে আমলেও।
বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বোরো মৌসুমেও কোথাও কোথাও কৃষকের কম দামে ধান বিক্রি, সরকারি ক্রয়মূল্য নিয়ে অসন্তোষ কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েই গেছে।
সরকার ধান ও চাল—দুটিই সংগ্রহ করে, কিন্তু কৃষক মূলত ধান বিক্রির সুযোগ পান। আবার ধান সংগ্রহ করা হয় তুলনামূলক কম। চাল সরবরাহের বড় অংশের জন্য চুক্তি হয় চালকল মালিকদের সঙ্গে।
ফলে সরকারের নির্ধারিত দামের সুবিধা সরাসরি কৃষকের হাতে যাওয়ার বদলে সরবরাহ শৃঙ্খলের পরবর্তী স্তরে চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রক্রিয়াগত জটিলতায় অনেক ক্ষেত্রে ছোট কৃষক সরকারের কাছে বেশি লাভের সুযোগ সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে ধান বিক্রি করে দেন।
