ভয়াল নাইন/ইলেভেন, হামলার ২৫ বছর পূর্তি আজ

ভয়াল নাইন/ইলেভেন, হামলার ২৫ বছর পূর্তি আজ

ফন্ট সাইজ:

ইতিহাসের বিভীষিকাময় দুনিয়াকাঁপানো নাইন ইলেভেন, আজ শুক্রবার। ২০০১ সালের এই দিনে সন্ত্রাসীরা যাত্রীবাহী চারটি বিমান ছিনতাই করে একযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ও ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে হামলা চালায়। এ হামলায় অন্তত তিন হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৭৮টি দেশের নাগরিকও ছিলেন। গুরুতর আহত হন প্রায় ২৫ হাজার।

স্থানীয় সময় শুক্রবার নানা আয়োজনে দিনটিকে স্মরণ করবে মার্কিন নাগরিকরা। প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটিতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল-মালা-মোমবাতি নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চত্বরে হাজির হবেন । স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরে বার্ষিক আয়োজনে শ্রদ্ধাঞ্জলির পাশাপাশি প্রতিবছরের ন্যায় পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নিহতদের নাম পাঠ এবং নীরবতা পালন করা হবে । অনুষ্ঠানটি শুরু হবে স্থানীয় সময় সকালে।

নিউ ইয়র্ক মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার জানান, সিটি মেয়র জোহরান মামদানীসহ বিভিন্ন উধ্বর্তন কর্মকর্তারা নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহন করবেন ।

এদিকে নাইন ইলেভেনের স্মরণে নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ৩টি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এই আইনগুলো মূলত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (9/11) সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, উদ্ধারকর্মী এবং তাদের পরিবারকে আরও বেশি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া হামলার অপর দুই এলাকা পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়া পার্কেও দিনটিকে স্মরণ করে নানা আয়োজন করবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দিনটিকে স্মরণ করবেন বিভিন্ন আয়োজনে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের এ হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া সবচেয়ে মারাত্মক হামলা। আল-কায়দা এ হামলা চালিয়েছে দাবি করে এরপর থেকে বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। জঙ্গিবাদ দমনের নামে আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রাণ হারান বহু নিরপরাধ মানুষ। পরবর্তীতে ২০১১ সালে পাকিস্তানে এক অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
হামলার পর ২০০৬ সালে আবার নতুন করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৪ সালে তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে হামলার স্থানে নিহতদের স্মরণে বেশ কয়েকটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বরের  নিহতদের মধ্যে ৬জন বাংলাদেশি ছিলেন। নিহতের তালিকায় রয়েছেন মুক্তাগাছার নূরল হক মিয়া এবং তার স্ত্রী মৌলভীবাজারের শাকিলা ইয়াসমীন, সুনামগঞ্জের সাব্বির আহমেদ, কুমিল্লার মো. শাহজাহান, সিলেটের সালাহউদ্দিন চৌধুরী এবং নোয়াখালীর আবুল কে চৌধুরী। যাদের স্মরণে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটি পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।