অনলাইনে নারীদের হয়রানি বন্ধে পররাষ্ট্রের উদ্যোগে ‘ঢাকা সংলাপ’ অনুষ্ঠিত

অনলাইনে নারীদের হয়রানি বন্ধে পররাষ্ট্রের উদ্যোগে ‘ঢাকা সংলাপ’ অনুষ্ঠিত

ফন্ট সাইজ:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অনলাইনে নারীদের হয়রানি, মানহানি ও বিপদের মুখে ফেলার ঘটনা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে ‘ঢাকা সংলাপে’র আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। গত ২০শে এপ্রিল আফ্রিকার ১০ম ডাকার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ফোরামে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ‘ঢাকা সংলাপ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

সংলাপের লক্ষ্য হলো অনলাইনে নারী নির্যাতন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক সহিংসতা মোকাবিলায় অভিন্ন সংজ্ঞা, রাজনৈতিক মনোযোগ, আইনি ও কারিগরি সক্ষমতা, তথ্য-প্রমাণ এবং অংশীদারিত্বের ঘাটতি দূর করা।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের পরিচালনায় সংলাপে অংশ নেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী, মায়ের ডাকের প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই সংলাপে অংশ নেন।

সংলাপের আওতায় প্রতিরোধ, তদন্ত ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর জন্য অভিন্ন ভাষা, মানদণ্ড ও স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির পরিকল্পনা থেকেই এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীদের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে আইন প্রণয়ন ও পর্যালোচনা, পুলিশকে প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্রমাণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফরেনসিক বিষয়ে প্রসিকিউটর ও বিচারকদের প্রশিক্ষণ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় হেল্পলাইন শক্তিশালী করতে সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অনলাইনে নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে।

সমাজকল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, নির্যাতন যখন রাজপথ থেকে অনলাইন পরিসরে চলে যায়, তখন জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা কী ভূমিকা রাখতে পারে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে আইনি ও প্রমাণসংক্রান্ত ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সংঘটিত নির্যাতনের তদন্ত ও বিচার করতে এখনো বিভিন্ন বাধা রয়েছে। বিশেষ করে ছবি বা কণ্ঠস্বর কৃত্রিমভাবে তৈরি হলে এর মাধ্যমে সংঘটিত ক্ষতি প্রমাণ করা কঠিন।
মায়ের ডাকের প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক নির্যাতনের শিকার নারীদের সহায়তার সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতার যোগসূত্র তুলে ধরেন।