ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধিই অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের এবারের কান্ট্রি হোস্ট ভারত। আগামীকাল শনিবার ও রোববার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দাওয়াত দিয়েছে ভারত।
সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে অংশ নেবেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি দাওয়াত দেয়া হয়েছে? দাওয়াত দেয়া হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তো দাওয়াত দেয়া হয়নি। হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ব্রিকসে প্রতিনিধি দেয়ার কোনো সুযোগই নেই। বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে দাওয়াত দিয়েছে, তো এখন আমরা কি বিমসটেকের সচিবকে পাঠাবো?
তবে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, আমরা প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে কাজ করছি। যখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরই তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। মাঝে আগস্টে পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়। এখন যা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে উভয় পক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী ঠিক কখন ভারত সফর করবেন তার সময় এখন নির্ধারিত হয়নি। তবে চলতি মাসে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের আগে এই সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো বলছে, এ বছরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে। এক্ষেত্রে দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চলছে।
রোহিঙ্গা সংকট একা সমাধান করতে পারবে না বাংলাদেশ: ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা এমন সংকট যা বাংলাদেশের একার পক্ষে সমাধান করা অসম্ভব। তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারের সহযোগিতাও প্রয়োজন। কেবল এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব।
প্রত্যাবাসন মানে কেবল সীমান্ত পার হওয়া নয় উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এর অর্থ হলো এমন একটি জায়গায় ফিরে যাওয়া, যেখানে মানুষ নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা এবং তাদের ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা নিয়ে বাঁচতে পারে। এর জন্য মিয়ানমারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যা এই প্রত্যাবাসনকে প্রকৃত অর্থেই টেকসই করে তুলবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত দশ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনসেবা, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এই বিশাল চাপ পড়া সত্ত্বেও আমরা এই কাজটি করেছি। বাংলাদেশ তার মানবিক দায়িত্ব ও মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশে রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন বক্তব্য দেন।
