ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নান্দাইলের মামুন নিহত

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নান্দাইলের মামুন নিহত

ফন্ট সাইজ:

ভালো বেতনে ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নেয়া হয়েছিল রাশিয়ায়। সেখানে পৌঁছানোর মাত্র চারদিনের মাথায় তুলে দেয়া হয় রুশ
সেনাবাহিনীর হাতে। জোরপূর্বক হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে পাঠোনো হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখ সমরে। সেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণ খারুয়া গ্রামের যুবক মামুন মিয়া (২৫)। নিহত মামুন ওই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের একমাত্র ছেলে। মামুনের পরিবার ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার মাস আগে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামক একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান মামুন।

তার সঙ্গে ৩০ জনের একটি দল ছিল। মঙ্গলবার মামুনের সহকর্মী ঝিনাইদহের রাজন মিয়া মুঠোফোনে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় মামুন প্রাণ হারিয়েছেন। ওই ঘটনায় রাজন নিজেও গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন। মামুনের স্বজনদের অভিযোগ, ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী চক্রটি তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনার পেছনে দায়ী ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ ও জড়িত পাচারকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। সরজমিন মামুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। ভাঙা ঘরের সামনে বসে অঝোরে কাঁদছেন মা রোকেয়া খাতুন ও স্ত্রী মহিমা আক্তার। নিহতের স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, গত ২৬শে আগস্ট স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। তখন মামুন জানিয়েছিলেন, আট কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে ওয়াই-ফাই সংযোগ পেয়ে তিনি কল করেছেন। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, দুইটা ছোট বাচ্চা নিয়ে আমি কীভাবে সংসার চালাবো? স্বামীর মরদেহটা কীভাবে দেশে আনবো, তা-ও জানি না।

নিহতের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, সংসারের অভাব দূর করতে সাড়ে ৮ লাখ টাকা এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখনো ঋণের টাকা শোধ করতে পারিনি, কিস্তির লোক এসে প্রতিদিন তাগাদা দিচ্ছে। আমার একমাত্র সন্তানের এই পরিণতি হবে— কখনো ভাবিনি। এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। দ্রুতই খোঁজখবর নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।