সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ৯ জনে দাঁড়ালো। নতুন করে ১ হাজার ১৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর
উপসর্গ দেখা গেছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯০৯ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১৬৫ শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
এ নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৯ হাজার ৯৩৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ শিশু ছাড়পত্র পেয়েছে।
২৫শে সেপ্টেম্বর থেকে হামের দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে
এদিকে, হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের জন্য অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। গতকাল ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে এসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
