সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে

সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে

ফন্ট সাইজ:

সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যম বা সাংবাদিকতার পেশাগত কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদে সাংবাদিকরা সম্পূর্ণ স্বাধীন গণমাধ্যম পাবেন এমন প্রতিশ্রুতিও দেন তারা। বলেছেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমবে এবং সমাজ অনেক পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠবে। ওদিকে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ৬ কোটি টাকা থেকে ২৫ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ডিআরইউ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানানো হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা এসব কথা বলেন। পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ডিআরইউ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বাংলাদেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যে সময় মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবদমিত ছিল, কথা বলা ছিল পাপ, যে কথা সরকারের বিরুদ্ধে যাবে-সেই কথা বলা ছিল ঘোরতর অন্যায়। সেই মুহূর্তে আমরা যতটুকু স্পেস পেয়েছি, সেইটুকু তারা প্রচার ও প্রকাশ করতে কখনো দ্বিধা করেনি।
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমবে এবং সমাজ অনেক পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠবে।

কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সাংবাদিকতা অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা। তবে সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ থাকলে দায়িত্ব পালন অনেক সহজ হয়ে যায়। রাজনীতির কাজ যেমন কঠিন, সাংবাদিকতার দায়িত্বও কোনো অংশে কম কঠিন নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয়।

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ অবদানের কারণেই দেশে আজ গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব হয়েছে। মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চায় বর্তমান সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। ডিআরইউ’র সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদ মাধ্যম আছে বলেই আমরা আজ এই জায়গায় আসতে পেরেছি। দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সার্বিক অর্জনে গণমাধ্যম সমান অংশীদার। বর্তমান সরকারের মেয়াদে আপনারা সম্পূর্ণ স্বাধীন গণমাধ্যম পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যম বা সাংবাদিকতার পেশাগত কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা নেই।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ৬ কোটি টাকা থেকে ২৫ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিক ভাই-বোনদের কল্যাণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, তা বর্তমানে ৬ কোটি টাকা। সেটি ২৫ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করার জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব করেছি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়িক সমাজ, রাজনৈতিক যারা নেতাকর্মীরা রয়েছেন এবং অন্য যারা স্টেকহোল্ডার রয়েছেন প্রত্যেককে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধিশালী, মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ যাতে গড়ে তুলতে পারি।

সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের এমন একটি স্তম্ভ, যা সরকারকে সঠিক পথে রাখে, বিরোধী দলকে দায়িত্ব মনে করিয়ে দেয় এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন।

ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শফিক রেহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস, সিনিয়র সাংবাদিক ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।