মায়ের শেষকৃত্যে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

মায়ের শেষকৃত্যে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে ক্যানসারে মারা যাওয়া মা সন্ধ্যা রাণী ধরের শেষকৃত্যে অংশ নিতে কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন অনুমোদন করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার তার ভাই অঞ্জন কুমার ধরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন অনুমোদন করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তার ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে মারা যান সন্ধ্যা রাণী ধর। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়।
মায়ের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর তাকে একনজর দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল তার পরিবার। পরে মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নেয়ার জন্য সেই আবেদন অনুমোদন করা হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পূর্বাশ্রমের নাম চন্দন কুমার ধর। তিনি ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত।

২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের সমাবেশের পর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাতেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আসামি করা হয়।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে জামিন হলেও একাধিক মামলা চলমান থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে চিন্ময়ের প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, ‘চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলে তাকে হাটহাজারীতে আনা হতে পারে। এ জন্য পুণ্ডরীক ধামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রিজার্ভ ফোর্স আনা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী আমিনুর রশিদ জানান, চিন্ময়ের মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ কমিশনার সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আগের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্যারোলে মুক্তির অনুমতি মিললে চিন্ময়কে আনা-নেয়ার রুটেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। নিরাপত্তা, যাতায়াতের সময় ও শেষকৃত্যে অংশ নেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্যারোলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।