শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ ক্ষেত্রে নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বুধবার ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এর ‘টিচার্স অ্যাট দ্য সেন্টার: এজেন্সি, কম্পিটেন্সিজ অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্ল্যানারি সেশনে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর টিচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের প্রধান কার্লোস ভার্গাস। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কোনো সুযোগ নেই। সারা বিশ্বেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের জন্য শিক্ষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাই আমাদের মূল সম্পদ। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে হলে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
প্রবাসী কর্মীরা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাতেও গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ ইংরেজি সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
