সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের কারণে মূল্যস্ফীতি কমেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি স্থলে আসেন এবং পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, একজন দেশপ্রেমিক ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকলে জনগণের স্বার্থটাই তিনি বড় করে দেখবেন। আপনারা দেখেছেন, গত আগস্ট মাসে যে মূল্যস্ফীতি, সেই মূল্যস্ফীতি কমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় যে জিনিস, খাদ্যপণ্যের জিনিস- সেগুলো যাতে জনগণ কিনতে পারে, সেই দিকে দৃষ্টি রেখে তিনি (সরকারপ্রধান) মার্কেট ইন্টারভেনশন বাজার হস্তক্ষেপ করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন। এখন বর্ষা শেষে শরৎ কাল পড়েছে, এই সময়ে জিনিসপত্রের দাম, খাদ্যপণ্যের দাম, শাক, সবজি, চাল, ডাল, লবণের দাম বাড়ে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কিন্তু এই সরকারের কঠোর ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে, কঠোর হস্তক্ষেপের কারণে জিনিসপত্রের দাম বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। যার কারণে আগস্টে আপনার মূল্যস্ফীতি অনেক কম হয়েছে।
গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, দেশে দেশে গ্যাসের সংকট আছে, জ্বালানির সংকট আছে। এই সংকট তো আন্তর্জাতিক সংকট, এই সংকট গ্লোভাল সংকট। এই সংকট একক কোনো রাষ্ট্রের নিরসন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমেরিকা এবং ইরান যুদ্ধ থামে। কারণ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরে যে পথটি, সেইটা হলো তেল আসার সবচাইতে বড় পথ। আজকে সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের যে জ্বালানি সংকট, এই সংকট তা মোকাবিলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর চেষ্টা করছেন। পূর্বের দেশ অর্থাৎ মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার তিনি ব্যবস্থা করছেন। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে গ্যাসবাহী যে কার্গোগুলো তারা আসছে এবং আমাদের যে টেকনিক্যাল ত্রুটি হয়েছিল, মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রে যে ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে- সেই টার্মিনালে ত্রুটি হওয়ার কারণেও আমাদের গ্যাসের যে স্বাভাবিক প্রবাহ, সেটা বন্ধ ছিল। কিন্তু সেইটা ঠিক হয়ে এসেছে এবং আস্তে আস্তে ক্রমান্বয়ে এটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
রিজভী বলেন, বিএনপির সরকার বা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার জনগণের স্বার্থ দুঃখ-কষ্ট-বেদনাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করে বলেই আজকে এই গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আরো ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে গ্যাস আমদানি করার জন্য। গ্যাস ও জ্বালানি এই সংকটের পরেও নানা দিকে নানা পরিসরে মানুষের যে আর্থিক উন্নয়ন করা দরকার, মানুষের আয় যাবে বাড়ে তার দিকে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।
সামাজিক বেষ্টনীর পরিধি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপও তুলে ধরেন রিজভী।
