নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্পের মনগড়া কাহিনি

সিএনএন ফ্যাক্ট চেক

নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্পের মনগড়া কাহিনি

ফন্ট সাইজ:

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (নাইন ইলেভেন) সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী হবে এ বছর। নাইন ইলেভেনের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের ভিত্তিহীন ও নাটকীয় দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনের তথ্য-যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকে উঠে এসেছে, নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্প যেসব গল্প শুনিয়েছেন, তার বেশিরভাগই মনগড়া এবং এগুলোর কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পরপরই তিনি তার নির্মাণকাজের পুরো দলকে নিয়ে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়েছিলেন। সেখানে নিকটবর্তী ‘ইউএস স্টিল’ ভবনটি (ওয়ান লিবার্টি প্লাজা) মটমট করে ভেঙে পড়ার মতো শব্দ করছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ভবনটি তাদের ওপর ভেঙে পড়বে ভেবে বিশাল দেহের দুজন ফায়ার ফাইটার এসে তার দুই বাহু ধরে শূন্যে তুলে ফেলেন এবং দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে হোয়াইট হাউসের কাছে প্রমাণ জানতে চাইলে কোনো প্রমাণ দেয়া হয়নি। বরং বলা হয়, সে সময় তিনি সাধারণ নাগরিক ছিলেন এবং তার সব কর্মকাণ্ড নথিভুক্ত ছিল না।

সিএনএন-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলার দিন ট্রাম্প ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরে মিডটাউন ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে ছিলেন। গ্রাউন্ড জিরোর কোনো ভবন থেকেই তাকে ফায়ার ফাইটারদের কোলে করে সরিয়ে নেয়ার কোনো রেকর্ড নেই। ট্রাম্প দাবি করেছেন ওই ভবনটি এখনো মটমট শব্দ করে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য। নাইন ইলেভেনের দুই মাসের মধ্যেই ভবনটি খুলে দেয়া হয়েছিল এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে।

এছাড়া গ্রাউন্ড জিরোর উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে নিজের শত শত কর্মী পাঠানোর যে দাবি ট্রাম্প বারবার করে থাকেন, তারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তৎকালীন ব্যাটালিয়ন প্রধান রিচার্ড অ্যালেস জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প এমন কোনো উদ্ধারকারী দল পাঠালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে তার আনুষ্ঠানিক নথি থাকত।

এর পাশাপাশি নাইন ইলেভেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতেও ট্রাম্প কিছু ভিত্তিহীন দাবি করেন। তিনি বলেছিলেন, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের দিন নিউ জার্সিতে হাজার হাজার মানুষ (বিশেষ করে আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়) উল্লাস করেছিল এবং টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর ম্যানহাটনে তার নিজের ভবনটিই (৪০ ওয়াল স্ট্রিট) সবচেয়ে উঁচু ভবনে পরিণত হয়েছিল। সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দুটি দাবিই সম্পূর্ণ মিথ্যা। সেদিন নিউ জার্সিতে উল্লাসের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবং ট্রাম্পের ভবনের চেয়েও উঁচু ভবন ওই এলাকায় অক্ষত ছিল। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই ট্রাম্প বারবার এসব ভিত্তিহীন কাহিনি প্রচার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।