পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থা ধসে পড়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। এ ইস্যুতে ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিকে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ব্যবসায়িক ফোরামে ‘মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর’ মাধ্যমে দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
লন্ডনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিলাওয়াল বলেন, নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার নাকভির রয়েছে। তবে তিনি যদি মনে করেন যে দেশের ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, তাহলে কেন তা ব্যর্থ হয়েছে এবং কীভাবে তা সংস্কার করা যায়, তা নির্ধারণে বিষয়টি জাতীয় পরিষদে আলোচনা হওয়া উচিত। পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, এমনটা হতে পারে না যে মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার এবং তা নিয়ে আলোচনা করার দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের।
নিম্নকক্ষে নাকভির অনুপস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, মোহসিন নাকভি জাতীয় পরিষদে খুব একটা আসেন না। তাই ব্যবসায়িক ফোরামে না গিয়ে তার সংসদে আসা উচিত। পিপিপি চেয়ারম্যান বলেন, সংসদের মেঝেতে যেকোনো ফেডারেল মন্ত্রী বা সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে এ বিষয়ে বিতর্ক করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত।
বিলাওয়াল বলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমস্যা, ত্রুটি ও দুর্বলতা নতুন কিছু নয় এবং স্লোগান দিয়ে এসবের সমাধানও সম্ভব নয়। ব্যবস্থাটির ব্যর্থতার পেছনের কারণ এবং তা সমাধানের উপায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। নাকভি সাম্প্রতিক বক্তব্যে অন্য কারও হয়ে কথা বলছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিলাওয়াল বলেন, মোহসিন নাকভি নিজের হয়ে কথা বলছেন, আর আমিও নিজের হয়ে কথা বলছি।
নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক জোরদার হওয়া প্রসঙ্গে বিলাওয়াল বলেন, এ বিষয়ে পিপিপির অবস্থান হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই দলটির অবস্থান একই। তিনি গিলগিট-বালতিস্তান, পাঞ্জাব ও সিন্ধুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, জনগণের মতামত তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও প্রাদেশিক পরিষদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তবে পাকিস্তানের গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের সর্বসমাধান হিসেবে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়টি উপস্থাপনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, আপনি শুধু বলতে পারেন না যে নতুন প্রদেশ গঠন করলেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতির সুনামির মতো সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।
ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা থেকে পিপিপি সরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন ধারণাও নাকচ করে দেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, পিপিপি ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা ফেডারেল সরকারের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত আছি। পার্লামেন্টারি সংস্থা, কমিটি ও নির্বাচন বয়কটের বিষয়ে পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) কৌশলেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বিলাওয়ালের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু পিটিআই ও বিরোধী দলের জন্যই ক্ষতিকর নয়, সংসদীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবেও এটি ক্ষতিকর।
