ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ইউরোপে উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

ইউক্রেন যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে ইউরোপে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এলসিআইয়ের ৭ সেপ্টেম্বরের রাতের সংবাদ বুলেটিনে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে।
ইস্কান্দার রাশিয়ার তৈরি একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এর Iskander-M সংস্করণের পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। উচ্চ গতি এবং জটিল উড্ডয়নপথের কারণে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে। ফ্রান্স ও ইতালির যৌথভাবে তৈরি SAMP/T ব্যবস্থা ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ। নতুন প্রজন্মের SAMP/T NG ব্যবস্থাও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ৭ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা মস্কো নাকচ করছে না। তবে বৈঠকের সময় ও স্থান নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই বক্তব্য এসেছে। মার্কিন প্রতিনিধিরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করলেও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সমঝোতা ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে ইউক্রেন আসন্ন শীত মৌসুমের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় দেশটির আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাবনার মধ্যে ইউক্রেনের জন্য এটি একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিতেও পড়ছে। ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত এবং সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে।
ফ্রান্সেও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতি ফরাসি সামরিক সহায়তা, ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সম্পর্ক দেশটির রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ফলে ইউরোপের সামনে এখন দুটি সমান্তরাল চ্যালেঞ্জ। একদিকে ইউক্রেনকে সম্ভাব্য রুশ হামলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দেওয়া, অন্যদিকে যুদ্ধের বিস্তার ঠেকিয়ে একটি টেকসই শান্তির পথ তৈরি করা। ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনার পাশাপাশি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও তাই ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে।