সিলেটের চার জেলা বিএনপি’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা। ইতিমধ্যে দুটি জেলার তিনটি ইউনিটের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝিতে প্রথমে সুনামগঞ্জ এবং পরে সিলেট জেলা ও নগর বিএনপি’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। চলতি মাসেই বিভাগের অপর দুই জেলা মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি সাংগঠনিক টিমের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বৈঠকটি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। থাকবে দিকনির্দেশনাও। সরকার ক্ষমতায় থাকলে দলের ভেতরে নেতাদের মধ্যে দূরত্ব, কোন্দল তৈরি হয়। তৃণমূল নানা কারণে বঞ্চিত হয়।
এ ছাড়া দল না গোছানোর কারণে হতাশা সৃষ্টি হয়। এসব দিক বিবেচনা করে বিভাগের চার জেলার বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ বিএনপি’র কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে বলে নেতাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন মিলন ও সিগনেটরি সদস্য হচ্ছেন আব্দুল হক। প্রায় তিন বছর আগে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এখনো সেটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। দলের নেতারা জানান, কমিটি না হওয়ার কারণে দলের তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলা পর্যায়েও সংগঠনকে গোছানো হচ্ছে না। ফলে সুনামগঞ্জ বিএনপিকে গতিশীল করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সে লক্ষ্যে আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপি’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের নেতারা। তবে সাংগঠনিক টিমের নেতারা জানিয়েছেন, যেহেতু তিন বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দলের কার্যক্রম চলছে সে কারণে দ্রুতই সম্মেলন ও কাউন্সিলের তাগিদ দেয়া হবে। সুনামগঞ্জের পর সিলেট জেলা বিএনপি’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। বৈঠকে দুটি কমিটির নেতারা উপস্থিত থাকতে পারবেন। আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর সিলেটের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপি’র কমিটির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে ক’মাস ধরে জেলার আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে নেতাদের মধ্যে তোড়জোড় চলছে। জেলার সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট-৬ আসনের এমপি। বর্তমানে জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে দলের রুটিন কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। যেহেতু কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে সে কারণে জেলার সম্মেলন ও কাউন্সিলের তাগিদ রয়েছে। এ কারণে জেলা বিএনপিকে গতিশীল করতে দ্রুতই নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে।
সাংগঠনিক টিমের নেতারা জানিয়েছেন— সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রক্রিয়া শুরু করার কাজ চলমান রয়েছে। যোগ্য একজন আহ্বায়ক খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি সদস্য সচিব নতুন মুখ আসতে পারেন। যারা দলকে সময় দিতে পারবেন তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। মহানগর কমিটির মেয়াদ আছে আরও কয়েক মাস। এরইমধ্যে সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনকে নগরের সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আর আগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দু’জন। নাসিম হোসাইন সভাপতি হয়ে ইতিমধ্যে নগরের তোপখানা এলাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাসভবনে কার্যালয় চালু করেছেন। মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। মহানগর বিএনপি’র সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে এবার ব্যাপক তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ফলে মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে চোখ রয়েছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের।
তবে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের নেতারা জানিয়েছেন, চার জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কেবলমাত্র দল গোছানোর বিষয়টি মুখ্য নয়। বিএনপি’র নেতাদের সঠিকভাবে পরিচালনা, সরকারের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডে জনগণের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়ার দিকনির্দেশনা থাকবে।
