বিয়ের এক বছর পর প্রথমবার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন শামীম। অসুস্থ স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে রেখে আসবেনÑ এমন স্বাভাবিক ভাবনা নিয়েই চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়ার পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রা যে তার জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি কেউ। মগনামা জেটিঘাটে বোটে ওঠার সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন শামীম। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ধরে স্বজনদের উৎকণ্ঠা আর উদ্ধারকারীদের অভিযান শেষে রোববার সকালে ঘাটের পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ।
শনিবার দুপুরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মগনামা জেটিঘাটে পৌঁছান শামীম। কুতুবদিয়াগামী বোটের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। বেলা আড়াইটার দিকে বোট ঘাটে এলে তাতে ওঠার সময় হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। চোখের পলকে পানিতে তলিয়ে যান তিনি।
নিহত শামীম ভোলা জেলার মোসলে উদ্দিনের ছেলে। তার স্ত্রী করিমা বেগম। শামীমের শ্বশুরবাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মংলার পাড়া এলাকায়। এ ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পানিতে তল্লাশি চালান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও শামীমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে অভিযান।
প্রিয় মানুষটির সন্ধান না পেয়ে ঘাটে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন স্ত্রীসহ স্বজনরা। পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল মগনামা জেটিঘাটে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানের পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের পানির নিচ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পানির নিচ থেকে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, সকালে মগনামা জেটিঘাট থেকে নিখোঁজ শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
