দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-৪

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শনিবার রাত ৮টায় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বাজারে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিলে এলকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রাগপুর-কুষ্টিয়া সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, হোসেনাবাদ বাজার এলাকার মণ্ডল ও সরদার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শামীম রেজা মোল্লা গত বৃহস্পতিবার দুইপক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। তবে ওই বৈঠকেও বিরোধের নিষ্পত্তি বা সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।

এরপর থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় হোসেনাবাদ বাজারে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় দুইপক্ষের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরপর চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান তারা এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে মণ্ডল গ্রুপের প্রধান ওয়াসিম মণ্ডল ও তুষার মণ্ডল (সুমন) এবং সরদার গ্রুপের প্রধান লিটন সরদার ও কামাল সরদার আহত হন। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তুষার মণ্ডল (সুমন), লিটন সরদার ও কামাল সরদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করেন।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে প্রাগপুর-ভেড়ামারা প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শামীম রেজা মোল্লা বলেন, তারা সবাই আমাদের দলের লোকজন। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার আমি দুইপক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। তবে সালিশ বৈঠকে পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আজ শুনছি, তারা দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং কয়েকজন আহতও হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা সবাই পলাতক রয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছি।