রংপুরে হরিজনদের উচ্ছেদ বন্ধের দাবি

ফন্ট সাইজ:

সারা দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে শতকরা ৮০ ভাগ কোটা বাস্তবায়নসহ মিটফোর্ড কলোনিতে হরিজনদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। গতকাল নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ হরিজন অধিকার আদায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুরেশ বাঁশফোড় সংবাদ সম্মেলনে জানান, হরিজনরা দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের ধারে, মেডিকেলের পাশে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন সরকারি খাসজমিতে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আছে। ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কালোনিতে দীর্ঘ ১৬৮ বছর ধরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়কে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই সেখান থেকে উচ্ছেদের জন্য কর্তৃপক্ষ নোটিশ প্রদান করেছে। এ নিয়ে ওইসব পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া হরিজনদের ছোট একটি ঘরে পরিবারের ৯ থেকে ১০ মানুষকে গাদাগাদি করে ঘুমাতে হয়।

দীর্ঘদিন থেকে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হরিজনরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, হাট-বাজার, অফিস আদালতে পরিচ্ছন্নতার কাজে লাখ লাখ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিযুক্ত রয়েছে। অথচ কোনো সরকার এই শ্রমের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করেনি। হরিজনরা যে বেতন পান, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির বাজারে তা দিয়ে তিনবেলা খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ হলেও সেখানে হরিজন সম্প্রদায়ের বাহিরের লোকজনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ফলে হরিজনরা কর্মহীন হয়ে সমাজের মূল স্রোতধারা থেকে আরও পিছিয়ে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে হরিজনদের শতকরা ৮০ ভাগ কোটা বাস্তবায়ন, উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করাসহ হরিজনদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ নিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু বাঁশফোড়, উপদেষ্টা লিটন বাঁশফোড়, কেন্দ্রীয় নারী সম্পাদক জ্যোতি হেলা, কোষাধ্যক্ষ রুবেল বাঁশফোড়, ক্রীড়া সম্পাদক দীপক বাঁশফোড় প্রমুখ।