প্রশিক্ষণ ও পারিবারিক ছুটির অজুহাতে বিদেশে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফিরছেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) দুই কর্মকর্তা। সাতদিনের প্রশিক্ষণ ও ওমরাহ পালনের পর টানা ‘চিকিৎসাজনিত ছুটি’ (মেডিকেল লিভ) ও বিনা বেতনে ছুটি কাটিয়ে দীর্ঘ সময় প্রবাসেই অবস্থান করছেন তারা। অনুপস্থিত এই দুই কর্মকর্তা হলেন ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস (আইআইএস) দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার কে. এম. মেহেদী হাসান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহির্বিষয়ক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও নোবিপ্রবি’র সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিদারুল আলমের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু জুবায়ের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সহকারী রেজিস্ট্রার কে. এম. মেহেদী হাসান ২০২৩ সালের ১৮ই জুন ইতালির ‘ইউনিভার্সিটি অব ল’ আকিলা’র ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টাফ ট্রেনিং উইক’-এ অংশ নিতে দেশ ছাড়েন। প্রশিক্ষণ শেষে আর না ফিরে তিনি ৩৪৪ দিন বেতনসহ ও ৮৩২ দিন বিনা বেতনে ছুটি কাটিয়ে মোট ৩ বছর ২ মাস ১৯ দিন প্রবাসে রয়েছেন। অন্যদিকে, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু জুবায়ের ২০২৪ সালের ২৩শে ডিসেম্বর পারিবারিক প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখান থেকে ওমরাহ পালন এবং পরবর্তীতে ‘মেডিকেল লিভ’ দেখিয়ে প্রবাসেই আছেন। বর্তমানে তার ৪৯১ দিন বেতনসহ ও ১৩২ দিন (প্রায়) বিনা বেতনে ছুটি কাটিয়ে মোট ১ বছর ৮ মাস ১৪ দিনের ছুটি হিসাবভুক্ত হয়েছে।
মাত্র ৭ দিনের ছুটিতে বিদেশে গিয়ে বছরের পর বছর অবস্থান করাকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে আগামী ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে কর্মস্থলে যোগ না দিলে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু জুবায়ের বলেন, আমি পত্র পেয়েছি। শারীরিক অসুস্থতা ও স্ত্রী’র পড়াশোনা শেষের দিকে হওয়ায় জটিলতায় আছি। আবেদনেও তা উল্লেখ করেছি।
তবে সহকারী রেজিস্ট্রার কে. এম. মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে উত্তর পাওয়া যায়নি। নোবিপ্রবি’র ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজীদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, তাদের অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যোগ না দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তারা আগামী ৩০শে অক্টোবরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন না করলে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপর আর কিছু বিবেচনা করা হবে না। নিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
