হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার দেড় মাস পার হলেও এখনো তা পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এতে করে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় হবিগঞ্জ সদর ও পার্শ্ববর্তী শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানির তোড়ে ইতিমধ্যে এসব এলাকার শতকোটি টাকার ধানি ও ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দেড় মাস ধরে অব্যাহত পানি প্রবেশে তলিয়ে গেছে হাজার একর ফসলি জমি ও শত শত পুকুর। বরাদ্দ ৭ কোটি টাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টির চাপে কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধটি হঠাৎ ভেঙে যায়। বাঁধ ভাঙা পানি নিমেষেই লোকালয়ে প্রবেশ করে কৃষি ও মৎস্য খাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। আশপাশের সব পুকুর ও ব্যবসায়িক মাছের খামার পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় স্রোতে ভেসে গেছে বিপুল পরিমাণ মাছ। ফলে খামারিরা কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দেয়ার পর পরই দ্রুততম সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। জানা যায়, ভাঙা বাঁধ দ্রুত পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বাস্তবে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ৪৫ দিন পার হয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও ধীরগতির বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। নতুন করে হবিগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ অঞ্চলে খোয়াই নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় আরও বহু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ভয়াবহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাঁধের খোলা অংশ দিয়ে অবিরাম পানি ঢুকতে থাকায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার পরিবার।
