স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা ইউএনও’র অভিনব পাঠদান

স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা ইউএনও’র অভিনব পাঠদান

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম চন্দনাইশে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যখন পাঠদানে ব্যস্ত, তখন বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে উন্মুক্ত ঝাউবাগানে জমজমাট আড্ডায় মেতেছিল একদল শিক্ষার্থী। তবে তাদের এই ‘ফাঁকিবাজি’ আড্ডা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। হঠাৎ সেখানে হাজির হন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমান। কোনো প্রকার সাজা বা ভীতি প্রদর্শন নয়, বরং সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্যেই শিক্ষক হয়ে তাদের জীবনের লক্ষ্য ও শিক্ষার পাঠ শেখালেন এই নির্বাহী কর্মকর্তা।
?রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চন্দনাইশ পৌরসভা সদরস্থ ঝাউবাগান এলাকায় এ ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। ?জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার সদর এলাকার ঝাউবাগানে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষার্থী আড্ডা দিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কিংবা নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে ইউএনও মো. আবদুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন। উপজেলা প্রশাসন প্রধানকে সামনে দেখে শিক্ষার্থীরা প্রথমে বেশ ঘাবড়ে যায়।

তবে ইউএনও তাদের কোনো বকাঝকা না করে পরম স্নেহ ও মমতায় ঝাউবাগানের প্রকৃতির মাঝেই গোল করে বসান। এরপর শুরু হয় এক অভিনব পাঠদান। ইউএনও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে খাতা-কলম তুলে দিয়ে বাংলা ও ইংরেজিতে ‘জীবনের লক্ষ্য’ নিয়ে লিখতে দেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন বেশ সুন্দর করে ইংরেজিতে তাদের ‘জীবনের লক্ষ্য’ ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হলেও, কয়েকজনের হাত যেন কিছুতেই চলছিল না। অনেককে আবার বাংলা ও ইংরেজি বই দেখে পড়তে দেয়া হয়। পাঠদানের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাস্তব চিত্র পরখ করার পাশাপাশি পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। হয়তো সামান্য একটু সঠিক দিকনির্দেশনা পেলেই তাদের জীবনের গতিপথ অনেক সুন্দর ও সুসংগঠিত হতে পারে। অপরদিকে, এই বয়সে অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তাদের শিক্ষা জীবন তথা পুরো চলার পথেই বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। ওদের শাস্তি দেয়া নয়, বরং সঠিক পথে ফেরানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।