মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমানের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেয়ার নামে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মুদি দোকান, বেকারি, হোটেল থেকে কোনো রশিদ ছাড়াই ৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য আইনে প্রতি বছর হোটেল-রেস্তরাঁ, বেকারি ও খাদ্য-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক। সেই সুযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদের নামে ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আতোয়ার রহমান। কোনো ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই তিনি সংক্রামক রোগ নেই মর্মে সনদ দিচ্ছেন। যোগদানের পর থেকেই এই সনদ ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শন, রিপোর্ট প্রদান, খাদ্য নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাবে প্রেরণ, নমুনা ভেজাল হলে আদালতে মামলা দায়ের, পচা-বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য জব্দসহ নানা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অথচ, তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে অবৈধ বেকারি, হোটেল ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সনদ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। তবে, প্রতি বছর একবার সনদের নামে অতিরিক্ত টাকা নিলেও সারা বছর আর কোনো টাকা-পয়সা নেন না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, সনদের জন্য আমাদের কোথাও আবেদন বা কিছু করতে হয় না। তিনি নিজে এসে টাকা নিয়ে যান এবং পরে এসে সনদ দিয়ে যান। উপজেলার গোয়ালবাগ এলাকার ভাই-বোন বেকারির মালিক মো. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ওরফে হবি মিয়া বলেন, গত জুন মাসে চলতি অর্থবছরের স্বাস্থ্য সনদের কাগজ দিয়ে ৩৫০০ টাকা নিয়ে গেছেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আতোয়ার।
আহাদ বেকারির পরিচালক কবির হোসেন বলেন, প্রতি বছর কাগজ করার জন্য স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এসে টাকা নিয়ে যায়। একবার ৪ হাজার, আবার ২ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাদের কোথাও যেতে হয় না। স্যানিটারি ইন্সপেক্টরই টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে যায়, পরে এসে সনদ দিয়ে যায়। কাণ্ঠাপাড়া এলাকার মদিনা বেকারির পলাশ বলেন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রেগুলার আমার এখানে এসে বসে থাকে। আমার সঙ্গে একটু সম্পর্ক ভালো, তাই আমার কাছে থেকে কম নেয়। ২ হাজার টাকার মতো দিয়েছি। বলড়া বাজারের মিন্টু বেকারির মালিক মিন্টু চন্দ্র শীল বলেন, যার কাছে থেকে যা নিতে পারে। এ বছর আমার বেকারির জন্য ৩ হাজার টাকা দিয়েছি। বাড়িতে চাচাতো ভাইয়ের গৌতম বেকারি নামে আরেকটা বেকারি আছে, ওইটার জন্য ২ হাজার টাকা দিয়েছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঝিটকা বাজারের এক ফুচকার দোকানদার বলেন, আমার কাছে থেকে স্বাস্থ্য সনদের জন্য ৭০০ টাকা নিয়েছে। আরেক চা দোকানি বলেন, আমার কাছে থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে আতোয়ার। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. আতোয়ার রহমান বলেন, এসব অভিযোগ অসত্য। মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন আইভী ফেরদৌস বলেন, আপনি যেহেতু জানালেন, আমি অবশ্যই বিষয়টি দেখবো।
