রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মুখে স্কচটেপ বাঁধা অবস্থায় ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সুপারভাইজার বাসের ভাড়া চাইলে ইসমাইল কোমরের লুঙ্গির কোছা থেকে টাকা বের করে দেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা অনেকগুলো টাকা দেখতে পান সুপারভাইজার। একপর্যায়ে নিহতের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং আরেকটি গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-বাসচালক সোহেল রানা (৪০), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৮) এবং হেলপার মোহাম্মদ মনির হোসেন (১৮)। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গত ৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বনানীর এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় এক পুরুষের মৃতদেহ পড়ে থাকার সংবাদ পাওয়া যায়। সংবাদ পেয়ে বনানী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে। মৃতদেহের মুখ ও দুই হাতে স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল এবং গলায় কালো দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে মৃতদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাহায্যে মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করি।’
‘ঘটনার পর বনানী থানা পুলিশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। ফুটেজ পর্যালোচনার একপর্যায়ে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। আমরা রাজ ক্লাসিক নামের একটি বাসকে সন্দেহজনকভাবে শনাক্ত করি’— বলেন ফারুক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘‘এরই ধারাবাহিকতায় জামালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামে ওই বাসটি মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বাসের সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন এবং বাসের হেলপার মোহাম্মদ মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাসের চালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাইক বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে যাত্রী হিসেবে বাসে তোলা হয়। পরে বাসের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী উঠানামা করে।’
ডিএমপি যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘জামালপুর থেকে ঢাকা আসার পথে একপর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ভিকটিমের কাছে বাসের ভাড়া চাইলে ভিকটিম তার কোমরের লুঙ্গির কোছা থেকে সেই ভাড়া প্রদান করেন। যখন তিনি লুঙ্গির কোছা থেকে টাকা বের করছিলেন, তখন সেখানে বেশ কিছু টাকা দেখা যায়। বিষয়টি সুপারভাইজার লক্ষ করেন। পরবর্তীতে সে বিষয়টি বাসচালককে অবহিত করে যে, এই ব্যক্তির কাছে অনেক টাকা আছে। সম্ভবত তিনি কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন। সুতরাং তার কাছ থেকে টাকা পাওয়া যেতে পারে। পরে বাসচালকসহ তারা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়ার পরিকল্পনা করেন।’
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসটি চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দিয়ে ইসমাইলকে নিয়ে ঢাকার দিকে আসতে থাকেন। একপর্যায়ে সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং আরেকটি গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।’
‘মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তারা এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বনানীতে আসেন। এরপর আবার উল্টো পথে এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় পিলার নম্বর ১৭৯ ও ১৮০-এর মাঝামাঝি জায়গায় ইসমাইলের মৃতদেহ ফেলে রেখে চলে যান’—উল্লেখ করেন মো. ফারুক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত সাজু ওরফে লিমনের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি মামলা এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি মামলা, দুটি মাদক মামলা ও দুইটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।’
