সালমান শাহ্‌র ৩০তম প্রয়াণ দিবস আজ

সালমান শাহ্‌র ৩০তম প্রয়াণ দিবস আজ

ফন্ট সাইজ:

বাংলা চলচ্চিত্রের বরপুত্র সালমান শাহ্‌র ৩০তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৯৬ সালের এই দিনে মাত্র ২৫ বছর বয়সে কোটি ভক্তকে স্তব্ধ করে দিয়ে ধানমণ্ডির ইস্কাটনের বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয় তার মৃতদেহ। দীর্ঘ তিন দশক অতিক্রান্ত হলেও ঢালিউডে সালমান শাহ্‌র তৈরি করা জোয়ার, তার অনন্য স্টাইল এবং রহস্যঘেরা প্রয়াণ আজ অবধি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

১৯৯৩ সালে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে পা রাখেন চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তৎকালীন বাংলা সিনেমার গতানুগতিক ধারাকেন্দ্রিক নায়ক-ভাবমূর্তিকে ভেঙে তিনি প্রথম প্রবর্তন করেন আধুনিক স্মার্টনেস, সাবলীল অভিনয় এবং তারুণ্যনির্ভর ফ্যাশন। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে তারকাখ্যাতি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের সংখ্যায় নয়, দর্শকের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলার ক্ষমতায় পরিমাপ করা হয়। শাবনূরের সাথে তার রসায়ন আজও ঢালিউডের রোমান্টিক জুটির ইতিহাসে বেঞ্চমার্ক হিসেবে গণ্য করা হয়।

মৃত্যুর পর প্রথম অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হলেও তা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপ নেয় সালমানের পরিবার ও তার ভক্তদের আন্দোলনের মুখে। গত তিন দশকে সিআইডি (CID), বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI)—তিনটি আলাদা সংস্থা একাধিকবার তদন্তের পর ঘটনাটিকে 'আত্মহত্যা' ও পারিবারিক কলহজনিত মানসিক অবসাদ হিসেবে উল্লেখ করে রিপোর্ট জমা দেয়। তবে সালমান শাহ্‌র মা নীলা চৌধুরী ও তার পরিবার শুরু থেকেই এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে পুনরুজ্জীবিত হত্যা মামলার অধীনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৎকালীন পরিচিত মুখ ও খল-অভিনেতা ডনকে।

তিন দশক পরও সালমান শাহ্‌ কেবল একজন অতীত তারকা নন; তিনি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছেও এক আইকনিক চরিত্র। পোশাকের নান্দনিকতা, ব্যান্ডানা, হেডব্যান্ড ও বিশেষ ঘরানার সানগ্লাসের প্রচলন করে তিনি যে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করেছিলেন, তার প্রভাব আজকের ডিজিটাল মাধ্যমেও সমানভাবে দেখা যায়। প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) তিন দিনব্যাপী মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করছে তার স্মৃতিধন্য কাজগুলো।