হরমুজ প্রণালির জাহাজগুলোতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা

হরমুজ প্রণালির জাহাজগুলোতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা

ফন্ট সাইজ:

হরমুজ প্রণালিতে থাকা একে অপরের জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানে। এর জবাবে হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত রুটে চলাচলকারী তিনটি ট্যাংকারসহ মোট ছয়টি জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরান। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার এটি সর্বশেষ ভয়াবহ রূপ। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের তিনটি জাহাজে হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলে অবস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক কড়া বার্তায় বলেন, আমাদের দুটি জাহাজে গুলি চালালে আমরা তোমাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে আরও চরম অর্থনৈতিক মূল্য চোকাতে বাধ্য করব।

এর জবাবে আইআরজিসি ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতারণায় পা দেবেন না এবং অননুমোদিত জলপথ দিয়ে যাওয়ার যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায়, আপনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের নিকট একটি ট্যাংকারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও জানিয়েছে তাদের কোনো সদস্যের ক্ষতি হয়নি।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিলেও ট্রাম্প নিজে সামরিক হামলার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন। গত ৩১ আগস্ট তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে খার্গ দ্বীপকে টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দেখানো হয়। এর জবাবে খার্গে হামলা হলে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক এবং যুদ্ধের আগে তারা তাদের অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশই এই খার্গ দ্বীপ দিয়ে রপ্তানি করত। কিন্তু গত এপ্রিলে মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরুর পর থেকে এই সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে এই অবরোধ আরোপ করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৬.২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।