নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় ‘ডিজিএফআইয়ের সদস্য’ পরিচয়ে এক সিএনজি চালককে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ও মারধরের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আহত অবস্থায় অপহৃত সিএনজি চালককে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের পাজেরো জিপ, দু’টি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, ‘ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর’ পরিচয়ের একটি ভিজিটিং কার্ড, একটি লাঠি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মাহাবুব আলম রায়হান (৩৬), সাদ্দাম কাজী (৩৫) ও নাসির (৩৬)। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঢাকার কদমতলী এলাকার বাসিন্দা সিএনজি চালক আলাউদ্দিন (৩৮) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলাউদ্দিন সাইনবোর্ড সিএনজি স্ট্যান্ডে গাড়ি নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি পুরোনো পাজেরো জিপ তার সামনে এসে থামে। গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে নিজেদের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সদস্য বলে পরিচয় দেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও লাঠি ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তারা লাঠি দিয়ে কয়েকটি সিএনজি ও বেবিট্যাক্সির সামনের কাঁচ ভাঙচুর করে। নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দেয়ায় ভয়ে কেউ তাদের বাধা দেয়ার সাহস করেননি। একপর্যায়ে তারা আলাউদ্দিনকে সিএনজি থেকে নামতে বলেন। তিনি কারণ জানতে চাইলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাজেরো গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। পরে গাড়িটি সাইনবোর্ড এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়কে ঘুরতে থাকে। এ সময় আলাউদ্দিনকে মারধর করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ডিজিএফআইসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়, অপহরণের সঙ্গে জড়িতরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারকারী একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। এরপর ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভুঁইঘর এলাকায় পাসপোর্ট অফিসের পাশের প্রধান সড়ক থেকে পাজেরো জিপটি আটক করা হয়। পরে গাড়িতে থাকা তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং আহত অবস্থায় সিএনজি চালক আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুবুর আলম জানান, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় পেশাজীবী মানুষকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক সিএনজি চালককে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ওসি আরও জানান, মাহাবুব আলম রায়হানের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, ‘ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর’ পরিচয়ের একটি ভিজিটিং কার্ড ও একটি ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ভিজিটিং কার্ড ও সিম কার্ডে একই মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
