টাকা বরাদ্দ নিয়ে মুখোমুখি এনএসসি ও বিওএ

টাকা বরাদ্দ নিয়ে মুখোমুখি এনএসসি ও বিওএ

ফন্ট সাইজ:

এশিয়ান গেমসের মাঠে লড়াই শুরু হতে বাকি মাত্র ১০ দিন। ১৯শে সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক গেমসের উদ্বোধন হলেও ফুটবল মাঠে গড়াবে ১৪ই সেপ্টেম্বর। এর আগে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে মুখোমুখি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। বিওএ’র দাবি সময়মতো টাকা না পাওয়ায় প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়েই এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে বেশির ভাগ ডিসিপ্লিন। শুধু এশিয়ান গেমস নয়, আগের দুই গেমসে অংশ নেয়ার টাকাও নাকি এনএসসি নানা অজুহাতে তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়নি বলে দাবি করেছে বিওএ। যদিও বিষয়টি একেবারে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন এনএসসি’র পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী।

এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড় না পাওয়ায় এশিয়ান গেমসের বরাদ্দের অর্থ দেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক।
এপ্রিলে চীনের সানিয়াতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরপর জুনে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত আরেকটি আন্তর্জাতিক গেমসেও ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই আসর মিলিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা নিজেদের তহবিল থেকে খরচ করেছে বিওএ। এই টাকা না পাওয়াতে আক্ষেপ করছেন বিওএ’র কর্মকর্তারা। তারা নানাভাবে এনএসসির ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এনএসসি পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘সবকিছু একটা নিয়মের মধ্যে চলে। বিওএ আমাদের যে কাগজপত্র জমা দিয়েছে। সেগুলো পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণে গেমস দু’টির বিল ছাড় করা যায়নি। এগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে। দ্রুতই কাগজপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা তাদের অনুকুলে বরাদ্দ দেবো।’

এদিকে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে বাংলাদেশের ২৯০ সদস্যের বহর প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু গেমসের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির সময়ই নাকি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বিওএ। সাত মাস আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) গেমসের প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণ বাবদ মোট ৩৯ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দিয়েছিল। এর মধ্যে অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা। সেই বাজেট ছোট হয়ে এখন ২০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। প্রশিক্ষণের অর্থও কমেছে। অংশগ্রহণের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি এবং প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের অংশগ্রহণে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিওএ নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিল। এ পর্যন্ত তারা ব্যয় করেছে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ১৯ কোটি টাকার বাজেট থেকে সেই অর্থ সমন্বয় করবে বিওএ। বিওএ’র অর্থে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে খুশি নয় ফেডারেশনগুলো। বিষয়টি নিয়ে বিওএর মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা বলেন, ‘এশিয়ান গেমসের মতো আসরে অংশ নেয়ার আগে এই ট্রেনিংটা খুবই কম হয়েছে। এনএসসি আমাদের অনুকুলে টাকা বরাদ্দ না করার কারণে আমরা ফেডারেশনগুলোকে সেভাবে সহায়তা করতে পারিনি।

যার প্রভাব পড়তে পারে গেমসে।’ প্রস্তুতির ঘাটতির কথা শুনতে চান না যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘বরাবরই গেমসের আগে বিওএ নিজ তহবিল থেকে ফেডারেশনগুলোর ট্রেনিং চালিয়েছে। পরে এনএসসি তাদের অনুকুলে বরাদ্দ দিয়েছে । এবারও অর্থ বিভাগ থেকে ছাড় পাওয়া মাত্র আমরা তাদের চাহিদা মাফিক অর্থ বরাদ্দ দেবো। এখানে প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি আসবে কেন? প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ এবার গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবল দল নেই। হাংজুতে অভিষেক হওয়া নারী ফুটবল দল অবশ্য এবারও থাকছে। নারী ফুটবল দল বর্তমানে চীনের গুয়াংজুতে অনুশীলন করছে। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পিটার বাটলারের দল ১১ই সেপ্টেম্বর সবার আগে জাপানে পৌঁছাবে। দ্বিতীয় দল হিসেবে ১৪ই সেপ্টেম্বর চীনে যাবে নারী ক্রিকেট দল। তবে পুরুষ ক্রিকেট দল যাবে আরও পরে, ২৫শে সেপ্টেম্বর। নারী ও পুরুষ দুই দলই হকিতে অংশ নেবে এশিয়ান গেমসে।

পুরুষ হকি দল প্রস্তুতি নিচ্ছে চীনে। ১২ বা ১৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে দলটি ১৫ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশে রওনা হবে। নারী হকি দল যাবে দুই ভাগে। অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল বর্তমানে চীনে এশিয়ান কাপ খেলছে। সেখানে থাকা দলের ১৩ জন খেলোয়াড় আছেন এশিয়ান গেমসের দলেও। এশিয়ান কাপের প্রতিযোগিতা শেষ করে তারা চীন থেকেই এশিয়ান গেমসের শহরে চলে যাবেন। ঢাকা থেকে যাবেন বাকি পাঁচজন। এভাবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের দল জাপানে যাবে ২৭শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শেষ দিনে যাবে গলফ, জুডো ও কুস্তি দল। এই তিন দলের সদস্যরাই সবার শেষে দেশে ফিরবেন, ৫ই অক্টোবর।