খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবার পরিচয়- আমরা সবাই বাংলাদেশি। কে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা মুসলিম- সেটা আমাদের ভেদাভেদের কারণ হতে পারে না। বিপদে-আপদে একে- অপরের পাশে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে গড়ে তুলবো একটি বৈষম্যহীন, অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই অসামপ্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জে জন্মাষ্টমী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্যের। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সকল বিভেদ ভুলে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। অন্যায়কে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। অশুভ শক্তিকে হটিয়ে সৌহার্দের বাংলাদেশ তৈরি করবো- এটাই জন্মাষ্টমীর মূল প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন। মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উৎসব অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রণব কুমার শিকদার, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালীপদ ঘোষ, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি অনির্বাণ পাল, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি তাপস পাল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি রঞ্জিত দে প্রমুখ।
পরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কালীবাড়ী থেকে জেলা শহরের প্রধান সড়কে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিতে বিভিন্ন সংগঠনের ভক্তরা অংশগ্রহণ করে। র্যালিটি পুনরায় কালীবাড়ীতে এসে শেষ হয়। এদিকে খাদ্যমন্ত্রী বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বেউথা এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় মন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
