সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করবে এম. সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ, মরহুমের পরিবার ও তার রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মরহুম এম. সাইফুর রহমান কর্মময় জীবনে তার অনন্য গুণে মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। তার সাদামাটা ব্যক্তিগত জীবন মানুষের দৃষ্টি কাড়তো। ছিল না চাওয়া- পাওয়ার অস্থিরতা। এমনকি উচ্চ আকাঙ্ক্ষা উচ্চ বিলাসিতাও পছন্দ ছিলনা একদমই। কথা বলতেন মারপ্যাঁচের জটিলতা ছাড়াই সরল সহজ আর ইংরেজি মিশ্রিত সিলেটি আঞ্চলিকতায়। এ কারণেই দেশ-বিদেশে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তার। দেশ দুনিয়ায় নাম কুড়ানো মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনের সেই ছেলেটি দেশের অন্যতম অর্থমন্ত্রী যিনি একনাগাড়ে ১২ বার সংসদে বেশ সফলতার সঙ্গে বাজেট পেশ করেছিলেন। কর্মে তার অনন্য গুণ তিনি উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়নও করতেন। এটাই তার অবিচল আস্থা বিশ্বাস আর কাজের প্রতি নিখাদ আন্তরিকতা ও কর্তব্যকর্মে দায়িত্বশীলতার নজির। নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারসহ পুরো সিলেট বিভাগেই রয়েছে তার চোখ ধাঁধানো উন্নয়নের ছোঁয়া।
১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- এম. সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ ও মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার গ্রামের বাড়িতে কোরআন খতম, মিলাদ, দোয়া, শিরনী বিতরণ। অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান, দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ। এছাড়াও দলীয়ভাবে বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় জেলা, উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরাও নানা কর্মসূচি পালন করবেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী: জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ই অক্টোবর, মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে। তার পিতা মোহাম্মদ আব্দুল বাছির, মাতা তালেবুন নেছা। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। মাত্র ৬ বছর বয়সে তার পিতা মারা যান। সে সময়ে তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন চাচা মোহাম্মদ সফি। শিক্ষাজীবন, গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০ সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৪৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্রিকুলেশনে উত্তীর্ণ হন। সিলেটের এমসি কলেজ থেকে আইকম পাস করে ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে চলে যান। সেখানে পৌঁছার পর মত পাল্টে যায় তার। ব্যারিস্টারির পরিবর্তে পড়েন চার্টার্ড একাউন্টেন্সি। ১৯৫৩-৫৮ সময়কালে পড়াশোনার পর ১৯৫৯ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ফেলোশিপ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন।
বিবাহ: ১৯৬০ সালের ১৫ই জুলাই বেগম দূররে সামাদ রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ৩ পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক। ২০০৩ সালে তার স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। ২০০৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর তিনি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী বাহারমর্দনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠা লগ্নে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আপন করে ডাকলেন দল গঠনে অংশ নিয়ে দেশও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হতে। তিনি তাই করলেন। রাজনীতিতে এলেন আলোকিত করলেন, আলোকিত হলেন। ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন ও ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের ৮ই জুন তিনি সংসদে দ্বাদশ বাজেট পেশ করে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে সর্বাধিকসংখ্যক বাজেট পেশকারী হিসেবে রের্কড গড়েন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন ছাড়াও দেশ-বিদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন কৃতিত্বের সঙ্গে।
