মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব

রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

রাজশাহী ও নাটোর জেলার বাস মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে বিভিন্ন আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্টেশনে এসে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দর্শনার উদ্দেশ্যে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘রাব্বি পরিবহন’র একটি বাস নাটোরে আটকে দেন সেখানকার মালিক-শ্রমিকরা। পরে বাসটির যাত্রীদের নামিয়ে ‘তুহিন পরিবহন’র একটি বাসে তুলে দর্শনার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে শুনেছি। যেসব বাস নাটোরের উপর দিয়ে চলাচল করে, সেগুলো বন্ধ রয়েছে। আমি বাস টার্মিনালে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবো।’
এদিকে, ঘটনার পর রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপের পক্ষ থেকে নাটোরের ‘তুহিন পরিবহন’র তিনটি বাস আটক করা হয়। পরে নাটোরে আটক থাকা ‘রাব্বি পরিবহন’র বাসটি ছেড়ে দেয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের তিনটি বাসও ছেড়ে দেয়া হয়। তবে এর মধ্যেই বিরোধের জেরে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপ রাজশাহী থেকে সব আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজশাহী বাস টার্মিনালে এসে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য গন্তব্যে নিয়মিত বাস চলাচল করে। রংপুরগামী এক যাত্রী শাহানাজ বলেন, ‘রংপুর যাবো। কাউন্টারে এসে বসে আছি। তারা বলছেন, সড়কে সমস্যা হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যে বাস ছাড়বে। কিন্তু এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও বাস ছাড়েনি।’

নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘রাব্বি পরিবহনের একটি বাস কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই নাটোরে প্রবেশ করায় নাটোরের মালিক-শ্রমিকরা সেটি রাজশাহীতে ফেরত পাঠিয়ে দেন। পরে নাটোরের ছয়-সাতটি বাস রাজশাহীতে আটকে দেয়া হয়। এ ঘটনার জেরে নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।’ এদিকে, বিরোধ সমাধানে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও নাটোরের পরিবহন মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ ছিল।