দেবিদ্বারে গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও পিডিবিএফ’র মাঠকর্মী

দেবিদ্বারে গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও পিডিবিএফ’র মাঠকর্মী

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ‘পল্লী দারিদ্র্যবিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)’র মাঠকর্মী মো. শাহজাহান মিয়া নামে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের ঋণের জমা ও এফডিআর’র প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকরা সংস্থার অফিসে ভিড় জমিয়ে অবরোধ করেন। বুধবার দেবিদ্বার- চান্দিনা সড়কের এএসপি সার্কেল দেবিদ্বার কার্যালয়ের পাশে ‘পল্লী দারিদ্র্যবিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)’র কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। গ্রাহকরা জানান, পিডিবিএফ’র অধীনে বিভিন্ন গ্রামে সমিতি রয়েছে। সমিতির সদস্যদের দারিদ্র্যবিমোচনে সঞ্চয় গ্রহণের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা হয়। অধিকাংশ গ্রাহকই ১০-১৫ বছর ধরে সঞ্চয় প্রদানে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করে আসছেন। অনেকে এফডিআর করে সঞ্চয় জমিয়েছেন।

গত ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় শতাধিক গ্রাহককে এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ দেয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা জমা নেয়া হয়। এরপর থেকে তাদের ঋণদানে আজকাল, এ মাস, ও মাস ঘুরিয়ে হয়রানি করছিল। ৮ বছর ধরে টাকা লেনদেনের ফিল্ড অফিসার হিসেবে শাহজাহান আলীর সঙ্গেই গ্রাহকদের যোগাযোগ ছিল বেশি। শিরীন আক্তার নামে এক গ্রাহক জানান, পিডিবিএফ’র মাঠকর্মী তাকে ৩ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে জামানত হিসেবে এক লাখ ১০ হাজার টাকা নেয়। তার একটি পুরাতন বইয়ে এ টাকার হিসাব জমা দেন। পরে নিশ্চিত হতে ফিল্ড অফিসার হৃদয় দাসকে বইটা দেখাই, তিনিও বলেছেন- হিসাব ঠিক আছে। এ বিষয়ে বুধবার ম্যানেজার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আপনার পুরাতন বইয়ে হিসাব থাকবে না, বর্তমান বই দেখান। এ টাকা আমাদের দপ্তরে জমা হয়নি।

আমি তাৎক্ষণিক পিডিবিএফ দেবিদ্বার শাখার ফিল্ড অফিসার শাহজাহান আলীকে অভিযুক্ত করে দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের পর শাহজাহান আলী পালিয়ে যায়। শাহজাহান আলী ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সরাতো গ্রামের মো. লিয়াকত আলীর ছেলে। আমার ঘটনার পরই অন্যান্য শতাধিক গ্রাহক জানতে পেরে অফিসে এসে টাকা ফেরত চাচ্ছেন। এছাড়াও একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, ঋণের জমা, ব্যক্তিগত সঞ্চয়, এফডিআর’র জমা টাকাসহ আমরা প্রায় শতাধিক গ্রাহক অর্ধকোটি টাকার উপরে জমা দিয়েছে। সেই টাকা মাঠকর্মী শাহজাহান নিয়ে পালিয়েছে। এ বিষয়ে অফিসে এলে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার উম্মে সুবাইদা আমাদের কোনো কথাই শুনেন না। উল্টো ধমক দিয়ে বলেন- যাকে টাকা দিয়েছেন তার কাছে যান। তার বিরুদ্ধে মামলা করুন। অথচ আমরা এই ব্রাঞ্চের মাধ্যমেই ঋণ গ্রহণ ও সঞ্চয় জমা করেছি। আমাদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে পিডিবিএফ অফিস কর্তৃপক্ষ। আমরা এদের বিচার চাই ও আমাদের কষ্টের টাকাগুলো ফেরত চাই।
এ বিষয়ে হিসাবরক্ষক কর্মচারী পারভীন আক্তার জানান, আমি কিছুই জানি না।

অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সপ্তাহে দুইদিন এখানে অফিস করি। আপনারা আমাদের জেলার ডিডি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার উম্মে সুবাইদা মুঠোফোন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হেড অফিসে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে পিডিবিএফ’র কুমিল্লা রিজিয়নের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. সফিকুল ইসলাম জানান, একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।