সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা নিয়ে আফসোসের শেষ নেই। রোগীরা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে নেন চিকিৎসাসেবা। এমন অবস্থা কখনোই বদলে না। এই অবস্থায় একদিনের জন্য ওসমানীর পরিবেশ বদলে গিয়েছিল। যেন সব ঠিকই আছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাত থেকেই প্রস্তুতি। হাসপাতাল ধুয়ে-মুছে সব পরিষ্কার। সব কিছুই চলে নিয়মে। রোগীর সেবা বলতে যা বোঝায় সবই হয়েছে গতকাল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাহাদাত হোসেন সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। বুধবার থেকেই সিলেটে আলোচনায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
হঠাৎ করে হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তারদের উপস্থিতির বায়োমেট্রিক রিপোর্ট প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দেন। আর এতে দেখা গেছে শতকরা অর্ধেক ডাক্তারই সময়মতো হাসপাতালে আসেন না। আর নির্ধারিত সময়ের আগে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান ৯৫ শতাংশ ডাক্তার। এতে বোঝা যায় ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কেমন চলছে। এই অবস্থায় সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে সঙ্গে নিয়ে সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। ক্যান্টিনেও যান। অনেক জায়গায় ঘাপলা পেয়েছেন। হাসপাতালে রোগীর বেডে ছারপোকা, তেলাপোকা বিচরণ করছিলো। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে অনেক ঘাটতিও পরিলক্ষিত হয়েছে। পরে তিনি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে সেবার মান ও নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন- আমি দায়িত্ব নেয়ার পর ২৫টির উপরে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। সব জায়গায় চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি ছিল।
রোগীরাও বলছেন, এখন চিকিৎসার মান ও পরিবেশ উন্নত হয়েছে। খাবারের মানও ভালো হয়েছে। এখানের কি অবস্থা আমি জানি না, যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে ৬ মাসের মধ্যে সমাধান হবে। ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিত না হওয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- সময়মতো ডাক্তারদের আসা-যাওয়ায় সময়ানুবর্তিতা আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন- চলতি মাসের শেষের দিকেই দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম। ইতিমধ্যে সরকারের ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পার্বত্য রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা ব্যতীত দেশের বাকি সব জেলায় ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপের হামের টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিদর্শনের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
চালু হচ্ছে ক্যান্সার ও শিশু হাসপাতাল: সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটবাসীর জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ দিয়েছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সিলেটে শিগগিরই একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল এবং অসম্পূর্ণ থাকা ৪৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালু করা হবে। একইসঙ্গে পূর্বঘোষিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে বর্তমানে তিনটি প্রধান প্রকল্প নিয়ে পুরোদমে কাজ চলছে। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
