নদী থেকে বালু লুট, বিপর্যস্ত সড়ক, রুখে দাঁড়ালেন গ্রামবাসী

নদী থেকে বালু লুট, বিপর্যস্ত সড়ক, রুখে দাঁড়ালেন গ্রামবাসী

ফন্ট সাইজ:

মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া ও কছুন্দি ইউনিয়নের আট গ্রামের বাসিন্দারা মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও গ্রামের সড়ক দিয়ে বালুবাহী ভারী যান চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শুক্রবার বাগবাড়িয়া এলাকায় সড়কে খুঁটি পুঁতে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বালুবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। গ্রামবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এমনকি সেনাক্যাম্পেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা নিজেরাই সড়ক বন্ধ করে প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বগিয়া ও কছুন্দি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীর চর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেই বালু ভারী ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদী ও পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামের পাকা সড়কগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও তারা প্রতিকার পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে সড়কে খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বালুবাহী যান চলাচল বন্ধ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো বালুবাহী ভারী যান চলাচলের কারণে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে বগিয়া ও কছুন্দি ইউনিয়নের চারটি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও কোথাও কোথাও ধসে গেছে। এসব সড়কের কয়েকটি অংশ বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের। গ্রামবাসীর দাবি, মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি বালুবাহী ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।