স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে আবার চাকরি ফিরে পেতে শিক্ষকের পাঁয়তারা

স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে আবার চাকরি ফিরে পেতে শিক্ষকের পাঁয়তারা

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলামের বহুমুখী দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদুলের ওই প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন সময়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, অসদাচরণের চিত্র তুলে ধরেন তারা। প্রায় দুই বছর আগে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণের পরও প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল পুনরায় চাকরি ফিরে পেতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা শফিউল ইসলাম শিমুল।

তিনি বলেন, ২০১২ সালের ১৭ই জুন মুজাহিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের সময় তার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু’র প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই পদে আসীন হন। এরপর থেকে একের পর এক অনিয়মে জড়ান। তখন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার ভাই হওয়ায় কেউ মুখ খুলেননি। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র জনতা তার বিরুদ্ধে ফুসে ওঠেন। তৎকালীন ইউএনও ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর ও বিভিন্ন দপ্তরে মুজাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এসব অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে চতুর মুজাহিদুল ২০২৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠান থেকে যাবতীয় পাওনা বুঝে নেন। ২০২৫ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বরের আবেদনের প্রেক্ষিতে এমপিও শীট থেকে নামও কর্তন করা হয়। কিন্তু এখন তিনি আমাদের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অভিযোগ তুলেন।

চাকরি ফিরে পেতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। সর্বশেষ হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন করেছেন। স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণের পর আবার কীভাবে চাকরি ফিরে পাবেন সেটা বোধগম্য নয়। তবে আমরা এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় যেকোনো কর্মসূচি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকবো। এ ব্যাপারে মুজাহিদুল বলেন, ’২৪-এর ৫ই আগস্ট পরবর্তী যা হয়েছে আমার সঙ্গে সব জোরপূর্বক হয়েছে। বর্তমান প্রধান শিক্ষক জামায়াতের লোক, তিনি সাবেক ছাত্রদের ফুসলিয়ে এসব করাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষার্থী শাকিল আহমদ, আব্দুল কাইয়ূম শিহাব আহমেদ তানভীর আহমদ, তাওফিক ইসরাইল মাহদী, আবু সাঈদ প্রমুখ।