কক্সবাজারের উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে মাত্র ১০ জন স্টাফের বিপরীতে প্রায় ৪০ জন দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, অফিসের বিভিন্ন সেবা পেতে দালালদের শরণাপন্ন হতে হয়। মিটার সংযোগ, নতুন সংযোগসহ বিভিন্ন কাজে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মিটার ইন্সপেক্টর আবুল বশরকে ঘিরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তাকে ওই চক্রের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে দ্রুত বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। এমনকি দালাল চক্রের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থই ডিজিএম কায়জার নূরের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস, এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয়। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে কক্সবাজারের পরিবেশ ও বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারি কঠোর নির্দেশনা থাকলেও উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় অর্থের বিনিময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ গ্রাহকরা বৈধ সংযোগ পেতে দীর্ঘদিন অফিসে ঘুরলেও বনভূমির অবৈধ স্থাপনায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা আরও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একইভাবে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরেও মিটার ছাড়াই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব সংযোগের কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মিত বিলিং ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব ব্যক্তিগতভাবে নোট করে রাখা হয়। পরে মাস শেষে ব্যক্তিগত কর্মচারীদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সংগৃহীত অর্থ সরকারি হিসাবে জমা হচ্ছে কি না এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি, মিটার তালিকা, বিলের রসিদ ও সংযোগের অনুমোদন যাচাই প্রয়োজন। উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের শত শত অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, সাধারণ সেবা পেতে অফিসে গিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হলেও দালালের মাধ্যমে অর্থ দিলে দ্রুত কাজ করে দেয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম কায়জার নূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও লোডশেডিং হচ্ছে। এ কারণে গ্রাহকরা হয়তো ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তবে দালাল চক্র, মিটার ইন্সপেক্টর আবুল বশরকে ঘিরে অভিযোগ, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিটারবিহীন সংযোগ দিয়ে সরকারি হিসাবের বাইরে বিল আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
