সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া বহুল আলোচিত একাধিক মামলার আসামি আসির মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের পানসি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসির মিয়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামুদারতপি গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামুদারতপি পয়েন্টে আসির মিয়াকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হলে স্থানীয় আত্মীয়-স্বজন পুলিশের কাছ থেকে জোরপূর্বক হ্যান্ডকাফের একাংশ ভেঙে তাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে ভাঙা হ্যান্ডকাফ হাতে নিয়েই ফেসবুক লাইভে এসে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রচার করেন আসির মিয়া। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনার পর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মাহমুদুল হাসান, এসআই মুকুল খান, এএসআই খাদেম, এএসআই রোশন ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের সঙ্গে সদর থানার এসআই জহির হোসেনকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ। একপর্যায়ে শহরের পানসি রেস্টুরেন্ট থেকে আসির মিয়াকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আসির মিয়াকে বর্তমানে সদর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হ্যান্ডকাফ নিয়ে পালিয়ে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসার পর আসির মিয়ার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ কৌশল করে বিশেষ অভিযানে পৌর শহরে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শান্তিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে মুল আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে।
