ইরান সংঘাত কোনো ‘যুদ্ধ’ নয়: ভ্যান্স

ইরান সংঘাত কোনো ‘যুদ্ধ’ নয়: ভ্যান্স

ফন্ট সাইজ:

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে এই সংকট কবে শেষ হবে কিংবা কখন জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, সক্রিয় যুদ্ধ অভিযান কয়েকমাস আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং সংঘাতের ইতি টানার বিষয়টি এখন পুরোপুরি ইরানের ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।

হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স দাবি করেন, বর্তমানে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি বা যুদ্ধাবস্থা নেই। অথচ চলতি সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় টানা তিন দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় এই সংঘাতের গুরুত্ব খাটো করে ভোটারদের মনোযোগ ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে পেন্টাগনের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৯০ জন আহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে গত মঙ্গলবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার ও মাইন বসানোর প্রায় ৬০টি অবস্থানে বহুমুখী বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযান সফল হলেও কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে এটি কোনো দ্রুত সমাধান নয় এবং ইরান দ্রুত তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। তেলের বাড়তি দাম নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সংঘাত বন্ধ করার কোনো রাজনৈতিক চাপ তিনি অনুভব করছেন না। এর আগে গ্রীষ্মের শুরুতে ভ্যান্স একটি যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিলেও তা মাত্র দুই সপ্তাহ টিকে ছিল।

সম্প্রতি হরমুজের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবরের তদন্ত চলছে জানিয়ে ভ্যান্স বলেন, মার্কিন বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না। বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ বন্ধ না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটন কোনো আলোচনায় যাবে না। তেলের দাম কমার নিশ্চয়তা না দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ব্রিফিংয়ে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথের বিতর্কিত নেতৃত্বের প্রতিও পূর্ণ সমর্থন জানান ভ্যান্স।