ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রাম নগরের ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিউ মার্কেট-মুরাদপুর-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রুটে মিনিবাস না চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যেতে গিয়ে তাদের বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত নগরের মুরাদপুর এলাকায় এ রুটের কোনো মিনিবাস চলতে দেখা যায়নি। তবে টেম্পো, ম্যাক্সিমা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল করছে। ফলে এসব যানবাহনে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।
হামজারবাগের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত এক মাস ধরে গ্যাস সংকটের কথা বলে ৩ নম্বর রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। আগে ৫ টাকা ভাড়া থাকলেও এখন ১০ টাকা এবং ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মিনিবাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মুরাদপুর থেকে মেহেদীবাগ যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে বের হন জোবায়ের রায়হান জিহান। মিনিবাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রিকশায় যেতে হয় তাকে। এতে ১০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেখানে ৮ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে পারতাম, সেখানে বাড়তি ৯২ টাকা খরচ হয়েছে।’
এর আগে সকালে কয়েকটি মিনিবাস চলাচল করলেও পরে সেগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আতুরার ডিপো থেকে প্রবর্তক মোড় যাওয়ার পথে এমন পরিস্থিতিতে পড়েন মাসুম আকবরী আকাশ। তার অভিযোগ, মুরাদপুর এসে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। ভাড়া সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত বাস আর সামনে যাবে না বলে চালক জানান। পরে কয়েক দফায় যানবাহন বদলে গন্তব্যে যেতে তার ২০ টাকা খরচ হয়। পরিবহন মালিকদের দাবি, চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গাড়ির ট্রিপ কমে যাচ্ছে এবং পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসচালিত গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও গ্যাসচালিত হিউম্যান হলারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো ভাড়ার তালিকা নেই। ফলে বিভিন্ন রুটে ভাড়া আদায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাস নিতে একটি গাড়িকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ট্রিপ কমার পাশাপাশি চালক ও মালিকদের ব্যয় বাড়ছে। তাই গ্যাসের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে হিউম্যান হলারের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
তবে বাড়তি ভাড়া আদায়কে সমর্থন করেন না বলে জানান মোহাম্মদ শাহজাহান। তার মতে, নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রতিটি গাড়িতে দৃশ্যমানভাবে টানিয়ে দেয়া হলে যাত্রী ও শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ কমবে।
তবে গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে স্থানীয়ভাবে ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. সানাউল হক বলেন, গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে। গাড়ি চলাচল বন্ধ করে স্থানীয় পর্যায়ে ভাড়া বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই। ভাড়া পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে এবং নতুন ভাড়া নির্ধারিত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, ৩ নম্বর রুটে মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি আগে জানা ছিল না বলে জানান বিআরটিএ’র এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
