জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ডাক দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চের সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে ওইদিন বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে চট্টগ্রামবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ের বিআইএ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণের কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তনও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, এসব সংকট নিরসন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপি’র সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা। জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার দেশ পরিচালনা করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ লংমার্চে অংশ নেবেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার সর্বস্তরের মানুষ লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে অংশ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভূঁইয়া, আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
