উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। এ ঘটনায় দু’টি মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা ৮ মিনিটের দিকে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মন্ত্রী গাড়িতেই ছিলেন। ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, সকাল ৯টা ৮ মিনিটে মন্ত্রীর পতাকাবাহী রেঞ্জ রোভার গাড়িটি সার্কিট হাউজ রোডের উল্টো পথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটিকে থামিয়ে দেয়। গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫। উল্টোপথে গাড়ির চালানোর এই অভিযোগে গাড়িটির বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গাড়িচালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, মন্ত্রীর গাড়িটি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল।
যে আইনে মামলা হয়েছে: ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটির বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৮৭ ও ৯২ ধারায় দু’টি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আইনের ৮৭ ধারাটি মূলত ৪৪ ধারার বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি নির্ধারণ করেছে। ৪৪ ধারার শুধু গতিসীমা লঙ্ঘনের বিষয় নেই। আইনের ৪৪(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো চালক নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে অথবা বেপরোয়াভাবে মোটরযান চালাতে পারবেন না। আর ৪৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো চালক সড়ক বা মহাসড়কে বিপজ্জনক বা অননুমোদিতভাবে ওভারটেকিং করতে পারবেন না এবং মোটরযান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেন না। এই ৪৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে ৮৭ ধারায় ব্যবস্থা নেয়া যায়। ৮৭ ধারা অনুযায়ী, এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড এবং চালকের ক্ষেত্রে একটি দোষসূচক পয়েন্টও কাটার বিধান রয়েছে। মন্ত্রীর গাড়ির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগের সঙ্গে ৪৪(৩) ধারার বিধানের সম্পর্ক রয়েছে।
অন্য মামলাটি হয়েছে আইনের ৯২ ধারায়। এই ধারা ৪৯ ধারায় নির্ধারিত মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশনা লঙ্ঘনের শাস্তির বিধান। আইনের ৪৯(১) ধারার প্রথম অংশে সড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বেশকিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত অভিমুখের বিপরীত দিক দিয়ে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য স্থানে, উল্টো পাশে বা ভুল দিকে গাড়ি থামিয়ে যানজট বা অন্য ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাও নিষিদ্ধ। ৪৯(১)-এর প্রথম অংশের এসব বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি রয়েছে ৯২(১) ধারায়। এ ধারায় সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। চালকের ক্ষেত্রে একটি দোষসূচক পয়েন্টও কাটা যেতে পারে বলে আইনে উল্লেখ আছে।
