জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রিট আবেদন-কারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও গাজী কামরুল ইসলাম প্রমুখ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।
পরে সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত ১৩ই নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ কেন অবৈধ হবে না সেই মর্মে চার সপ্তাহের রুল দিয়েছেন। গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না সেই মর্মে রুল জারি করেছেন। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ বিচারাধীন বিষয় হয়ে গেল। ঈদের পরে কোর্ট খুললে রুলের চূড়ান্ত শুনানি হবে।
অপরদিকে শিশির মনির জানান, সংবিধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না এটি একটি রুল। আরেকটি রুল হলো সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য যে চিঠি দেয়া হয়েছিল ওই চিঠির দ্বিতীয় অংশ সংবিধান সংশোধন সভার সদস্য হিসেবে শপথ নেয়াটা কেন অবৈধ হবে না এটি আরেকটি রুল। আরেকটি রুল হলো গণভোটের সেকশন তিনে যে চারটি প্রশ্ন দেয়া আছে সেটি কেন অবৈধ হবে না? এটি আরেকটি রুল। আর আরেকটি হলো ওই গণভোট অর্ডিন্যান্সের তফসিলের ৩০টি ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছিল সেটিকে কেন অবৈধ করা হবে না? এটি হলো আরেকটি রুল। এই চারটি সেপারেট রুল জারি হয়েছে।
গত সোমবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দু’টি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা রনি ও এডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম। রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশে সংবিধান সংস্কারের কোনো সুযোগ নেই। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসদে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। অন্যদিকে রিটের বিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ অসাংবিধানিক হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ই অক্টোবর। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর গতবছর ১৩ই নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সময় দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। আর গণভোট আয়োজনে জারি করা হয় গণভোট অধ্যাদেশ।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে এই আদেশ জারির পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। সেজন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর বর্তানোর কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়া বিএনপি’র নির্বাচিতরা ১৭ই ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে শুরুতেই জটিলতা দেখা দেয়।

Abdus Sabur
৪ মাস আগেতাহলে আদালত কি ৭৫% ভোটারের জনমতের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন? যদি এই ৭৫% ভোটার রাজপথে নামে তাহলে কি হবে? আদালত কি সেটাই চান?