নারী মুক্তি আন্দোলনের কিংবদন্তি গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর নেই

নারী মুক্তি আন্দোলনের কিংবদন্তি গ্লোরিয়া স্টেইনেম আর নেই

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ, লেখক ও নারী অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের বাড়িতে ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ গ্লোরিয়া স্টেইনেমের মৃত্যু হয় বলে ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছে তার ফাউন্ডেশন। মৃত্যুর সময় ‘তিনি ভালোবাসতেন এমন অনেক মানুষের’ সান্নিধ্যে ছিলেন।

লেখক ও ম্যাগাজিন সম্পাদক হিসেবে পরিচিত স্টেইনেম ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে যৌন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নিবেদিত সংগঠন উইমেন’স অ্যাকশন অ্যালায়েন্স-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হন।
নিউইয়র্কে সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে তিনি ‘গং.’ ম্যাগাজিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হন। এটি ছিল প্রথম দিককার এমন প্রকাশনাগুলোর একটি, যেখানে গৃহস্থলি ও সৌন্দর্যচর্চার বাইরে নারীদের বিভিন্ন অধিকার ও সমস্যা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হতো।
১৯৭০-এর দশকে নারীদের প্রজনন অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চারভাবে প্রচার চালান স্টেইনেম।
২২ বছর বয়সে তিনি লন্ডনে অবৈধভাবে গর্ভপাত করিয়েছিলেন। কয়েক বছর পর ১৯৭৩ সালে রো বনাম ওয়েড মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে তিনি স্বাগত জানান। ওই রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর এই সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘটনাও তিনি প্রত্যক্ষ করেন।

সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা, নারীদের সমান অধিকার ও সমান বেতনের পক্ষেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড ও নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছেন তিনি।
১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলিডো শহরে জন্মগ্রহণ করেন স্টেইনেম। তার শৈশব ছিল কঠিন। ১২ বছর বয়সের আগে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে যেতে পারেননি।
১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর গবেষণাবৃত্তি নিয়ে ভারতে যান তিনি। সেখানে দুই বছর বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন।

এর মধ্যে ছিল গ্রামীণ নারীদের সরকারি নীতির বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ সংগঠিত করতে সহায়তা করা। এই অভিজ্ঞতাই তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক আন্দোলনের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি করে।
এরপর ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে নিউইয়র্ক সিটিতে চলে যান তিনি। প্লেবয় বানির কর্মপরিবেশ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তার বড় ধরনের পরিচিতি আসে।

২০১৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্টেইনেমকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম প্রদান করেন।