যুক্তরাষ্ট্রের একটি মুদ্রায় জায়গা করে নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। প্রায় এক শতাব্দী পর এই প্রথম কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির মুদ্রায় ব্যবহৃত হলো।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশাল (ইউএস মিন্ট) দেশটির ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সম্বলিত ১ ডলারের বিশেষ মুদ্রা বাজারে ছাড়ে। মুদ্রাটিতে ট্রাম্পের ছবির পাশাপাশি ‘লিবার্টি’ এবং ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ লেখা রয়েছে।
ইউএস মিন্ট বলেছে, বিশেষ সংস্করণের এই মুদ্রাটি ‘২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে থাকা একটি জাতির চেতনা, গর্ব ও ঐতিহ্য’ ধারণ করছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিন্টের ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য মুদ্রাগুলোর দাম রাখা হয়েছিল- ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম ১৫৪.৫০ ডলার।
বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউএস মিন্টের ওয়েবসাইটে মুদ্রাগুলো ‘বর্তমানে মজুত নেই’ বলে দেখানো হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইউএস মিন্ট, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ‘ঐতিহাসিক এই জাতীয় মাইলফলক উদযাপনের জন্য’ মুদ্রাটি তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষায়, এটি ‘প্রজন্মে একবার আসা’ এমন একটি বার্ষিকী নকশা, যা আধুনিক সংগ্রহে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএস মিন্টের দোকানে ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমেও মুদ্রাগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। মুদ্রাগুলো দেখতে সোনালি রঙের হলেও এতে প্রকৃত কোনো সোনা নেই।
ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রায় ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা রয়েছে। বাকি অংশে রয়েছে জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল।
এর আগে গত মে মাসে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, তার বিভাগ ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সম্বলিত নতুন ২৫০ ডলারের নোট ইস্যুর পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন ফেডারেল আইনে জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি সম্বলিত মার্কিন নোট ছাপানো নিষিদ্ধ। তবে ট্রাম্পের সমর্থক কংগ্রেস সদস্যরা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তৈরির জন্য একটি আইন প্রস্তাব করেছেন। যদিও প্রস্তাবটি বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।
তবে বেসেন্ট সে সময় উল্লেখ করেছিলেন, অতীতে আরেকজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। ১৯২৬ সালে আমেরিকার ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইস্যু করা একটি হাফ-ডলার মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালের ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া এই আইনে মুদ্রার পেছনের অংশে (টেইলস সাইড) জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে সামনের অংশে (হেডস সাইড) জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারের বিষয়ে আইনে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। নতুন ১ ডলারের মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রয়েছে এই সামনের অংশেই।
এ ছাড়া ১৮৬৬ সালের ‘থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী’ মার্কিন নোটে জীবিত কোনো ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে এই বিধান ঐতিহ্যগতভাবে মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
