গলার কাঁটা লুটের ১৩০৯ অস্ত্র

গলার কাঁটা লুটের ১৩০৯ অস্ত্র

ফন্ট সাইজ:

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও পুলিশের লুটের অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সাড়া মেলেনি। ওই সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একাধিক অভিযান চালিয়ে আশানুরূপ সফল হতে পারেননি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পর এবার লুটের অস্ত্র উদ্ধারে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে পুলিশ। কারণ এসব অস্ত্র এখন রীতিমতো গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এবারো বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের পর থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৫ হাজার ৮২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯টি গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায় দুর্র্বৃত্তরা। লুট হওয়ার প্রায় দুই বছর পরও এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৯টি অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এসব অস্ত্র কোথায় আছে, কার কাছে আছে— সেই তথ্যও নাই পুলিশ ও গোয়েন্দাদের হাতে। সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা ও অভিযানের কথা বলা হচ্ছে দু’বছর ধরেই। কিন্তু সরকারি এসব অস্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে নানা শঙ্কা।

লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে তাৎক্ষণিক যেগুলো উদ্ধার হয়েছে সেগুলো খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে উদ্ধারের পরিমাণ একেবারে থেমে যায়। ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দিয়ে একক বা যৌথ চিরুনি অভিযান চালিয়েও সব অস্ত্র উদ্ধার করা যাচ্ছে না। এমনকি পুরস্কারেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেউ।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, লুটের অস্ত্র উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সুফল আসার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এসব অস্ত্র এখন হাতবদল হয়ে আড়ালে আবডালে চলে গেছে। সরকারি অস্ত্রগুলো লুটের পর পরই দুর্বৃত্তরা প্রথমে নিজেদের হেফাজতে পরে সেটি অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ বিক্রি করে দিয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে, লুটের অস্ত্র এখন সন্ত্রাসী, জঙ্গি, চরমপন্থি, পেশাদার কিলার, বড় মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে। এসব অস্ত্র বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে। পুলিশও ইতিমধ্যে বিভিন্ন আসামির হেফাজত থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র লুটের হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এমনকি বিভিন্ন অপরাধে এসব অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে। দেশে যখন অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি হয় তখন গুলির ঘটনা ও অস্ত্র দিয়ে অপরাধ করার প্রবণতা বাড়ে। চব্বিশের আগস্টের পর থেকে দেশ জুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক মানুষ হত্যাসহ অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও আশাব্যঞ্জক নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, হেভি ওয়েপনস (ভারী অস্ত্র) উদ্ধার করার জন্য যে সহযোগিতা করবে, খবর দেবে, তাদেরকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে। যারা পিস্তল, রিভলবার ও শটগান উদ্ধারে তথ্য দেবে তাদের ৫০ হাজার টাকা ও সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত হওয়া টিয়ার গ্যাসের সেল ও অন্যান্য যেগুলো অস্ত্র আছে, সেগুলো উদ্ধারের জন্য যারা সহযোগিতা করবে, সংবাদ দেবে, তাদেরকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার, ২০ হাজার টাকা করে ক্ষেত্রমতে পুরস্কৃত করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ৫০০ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমরা বিশেষ একটা ইউনিট গঠন করেছি। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট নিয়ে তারা ইতিমধ্যে কাজে নেমে গেছে। আরও জোরদার করার জন্য আমরা পরামর্শ দিয়েছি।