বর্জ্যরে বিনিময়ে মিলবে নিত্যপণ্য

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বর্জ্যরে বিনিময়ে মিলবে নিত্যপণ্য। যে কেউ প্লাস্টিকজাত বর্জ্য জমা দিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য নিতে পারবেন। গতকাল রাজধানীর ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীবাগ বস্তি সংলগ্ন মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘বর্জ্যরে বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র জানায়, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি চালু হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র প্লাস্টিকজাত বর্জ্য বিনিময় করা হবে। ধীরে ধীরে অন্যান্য বর্জ্য বিনিময় করা হবে। গতকাল উদ্বোধন শেষে হাজারীবাগের বাসিন্দারা বর্জ্য জমা দিয়ে অস্থায়ী স্টল থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু ও টিস্যুসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হবে। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ডিএসসিসি’র প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি।

যেভাবে বিনিময় করা হবে
প্লাস্টিকজাত বর্জ্য কেজি হিসেবে নিত্যপণ্যের সঙ্গে বিনিময় করা হব্যে। এর মধ্যে- হাফ কেজি বর্জ্যরে বিনিময়ে মিলবে একজনের ভাত তরকারি। ১ কেজি বর্জ্যরে বিনিময়ে মিলবে- ১ কেজি চাল অথবা ১ কেজি লবণ অথবা ৬টি ডিম অথবা হাফ কেজি সুজি অথবা দু’টি নুডুলসের প্যাকেট। ২ কেজি বর্জ্যে মিলবে- ১ কেজি ছোলা অথবা একটি টি-শার্ট অথবা ১ প্যাকেট বিস্কুট বা টোস্ট অথবা ১ প্যাকেট চানাচুর। ৩ কেজি বর্জ্যরে বিনিময়ে মিলবে- ১ কেজি মসুর ডাল অথবা ১ কেজি চিনি। ৪ কেজি বর্জ্যে মিলবে- ২ কেজি আটা। ৫ কেজি বর্জ্যে মিলবে- ১টি মাছ অথবা ১টি সয়াবিন তেল অথবা ১টি স্কুলব্যাগ। ৬ কেজি বর্জ্যে মিলবে একটি মুরগি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যরে বিনিময়ে বাজার’ সেই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ড্রেন ও নালা-নর্দমায় ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নাগরিকরা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ সুরক্ষা দুটোই সম্ভব হবে। প্রশাসক জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে ডিএসসিসি’র প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালু করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা প্রান্তিক মানুষকে শুধু সাহায্য না দিয়ে পরিচ্ছন্নতার অংশীদার করছি। গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যা দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।