প্যাডেল রিকশা বন্ধ, নিরাপদ ব্যাটারি রিকশা চালু ও প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণে আইনি নোটিশ

প্যাডেল রিকশা বন্ধ, নিরাপদ ব্যাটারি রিকশা চালু ও প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণে আইনি নোটিশ

ফন্ট সাইজ:

দেশে প্যাডেলচালিত রিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেটকারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম মানুষ প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন। অথচ এসব ব্যক্তিগত গাড়ি সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে রাখে। পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি জ্বালানি ভর্তুকির ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, প্রাইভেটকার থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও মানুষের ‘জীবনের অধিকারের’ জন্য হুমকি তৈরি করছে।

অন্যদিকে, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে গণপরিবহন ও রিকশার ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, অর্থনৈতিক সংকট ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক প্রান্তিক মানুষ প্যাডেল রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। দাবদাহ, বৃষ্টি, যানজট ও প্রতিকূল পরিবেশে যাত্রীবোঝাই রিকশা টানার ফলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবী নোটিশে সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে দাবি করেন, জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় প্যাডেল রিকশা চালানোর মতো কঠোর কায়িক শ্রম থেকে শ্রমজীবী মানুষকে মুক্ত করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নোটিশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ‘প্রোডাক্ট লাইফ সাইকেল’ তত্ত্বের কথা উল্লেখ করে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে স্থানীয় পরিবহনের আধুনিক ও প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং সিস্টেম, ব্যাটারির মান, রিকশার কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক চার্জিং ব্যবস্থাসহ নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

ব্যাটারিচালিত রিকশায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়, এ পরিবহন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের যাতায়াত, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারিচালিত রিকশা পরিচালনা জাতীয় সম্পদের সুষম ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেট কারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, উচ্চহারে পরিবেশ কর এবং রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার ও মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবা উৎসাহিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্যাডেল রিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা নোটিশদাতাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।