জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে ২০তম এশিয়ান গেমস। এর আগে ১৪ই সেপ্টেম্বর শুরু হবে নারী ফুটবল। এই আসরকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দলে নতুন মুখ অর্পিতা বিশ্বাস। গত মে মাসে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। মূল আসর শুরুর আগে ১৪ই সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে গতকাল রাতেই চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। সেখানে গুয়াংঝু এফসির বিপক্ষে আগামী ৭ ও ১০ই সেপ্টেম্বর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে রুপনা-মারিয়াদের। সেখান থেকে গেমসের ভেন্যু ওসাকাতে যাবে বাংলাদেশ দল।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সামনে কঠিন পর্বতপ্রমাণ চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ পর্বেই প্রতিপক্ষ হিসেবে উত্তর কোরিয়া ছাড়াও আছে দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। এমন শক্তিশালী গ্রুপে লড়াই কতটা কঠিন হবে, তা অজানা নয় কোচ পিটার বাটলারের। ইংলিশ এই কোচ সাফ জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের কোনো আশা নেই; বরং কঠিন দলগুলোর বিপক্ষে খেলে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও উন্নতির পথ খুঁজে নেওয়াকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন তিনি। এ বছরের জুলাইয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করার পর থেকেই এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপে চীন গেলো মেয়েরা। এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। সর্বশেষ সাফজয়ী দল থেকে বাদ পড়েছেন সুরমা জান্নাত, হালিমা আক্তার, উমেহেলা মারমা ও সৌরভী আকন্দ। তাদের জায়গায় দলে ফিরেছেন মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার এবং দুই ডিফেন্ডার আইরিন খাতুন ও নবীরণ খাতুন। এছাড়া ঘোষিত দলে একমাত্র অনভিষিক্ত মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অর্পিতা বিশ্বাস। গত মে মাসে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামতে পারেননি অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অর্পিতা। এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চেই জাতীয় দলের জার্সিতে তার অভিষেক হতে পারে। দলের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা নিয়ে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ পিটার বাটলার রাখঢাক না রেখে শোনান বাস্তবতার কথা। তিনি বলেন, ‘উত্তরটা হয়তো কিছুটা কঠিন শোনাবে, তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা এখনো পদক জয়ের মতো স্তরে পৌঁছাইনি।’ তবে চীনে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন কোচ, ‘চীনে খেলার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ বিষয়। ভালো মানের দলের বিপক্ষে খেলার এমন সুযোগ আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন।’
এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
গোলকিপার: রুপনা চাকমা, স্বর্ণা রানী, মিলি আক্তার।
ডিফেন্ডার: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, সুরভী আক্তার, অর্পিতা বিশ্বাস, উন্নতি খাতুন, আইরিন খাতুন, নবীরণ খাতুন।
মিডফিল্ডার: মনিকা চাকমা, মৌমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া, মুনকি আক্তার।
ফরোয়ার্ড: তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মৎ সাগরিকা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মোসাম্মৎ সুলতানা।লেস্টারের সঙ্গে ২০ বছরের পাট চুকিয়ে শেফিল্ডে হামজা
