২০ বছর পর গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে বিদায় জোকোভিচের

ফন্ট সাইজ:

আরেকটি রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এবারের ইউএস ওপেনে নাম লেখান নোভাক জোকোভিচ। লক্ষ্য ছিল ক্যারিয়ারের ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। কিন্তু নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে সার্বিয়ান তারকা দেখলেন কঠিন বাস্তবতা। আর্জেন্টিনার ৪৮ নম্বর বাছাই মারিয়ানো নাভোনের কাছে ৭-৬ (৭-৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ ব্যবধানে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেন ৩৯ বছর বয়সী জোকোভিচ। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টেইনের কাছে হারের পর এই প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে বিদায় নিলেন তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি সার্বিয়ান তারকাকে। নিউইয়র্কের আর্দ্র আবহাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েন। নেন আইসব্যাগ ট্রিটমেন্ট। ছাদ বন্ধ হওয়ার পর এসি চালানোর জন্য জোকোভিচ সুপারভাইজারকে অনুরোধ করতে দেখা যায়। তৃতীয় সেট চলাকালীন কোর্টের পাশে রাখা তোয়ালের ঝুড়িতে বমি করেন। পাশ থেকে ফিজিও ছুটে এসে তাকে ওষুধ দেন, দলের সদস্যরা কোর্টসাইডে খাওয়ান তরল খাবার। কঠিন সময়ের মধ্যেও হাল ছাড়েননি ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী। প্রথম সেট টাইব্রেকে হারার পর দ্বিতীয় সেটে ৫-৫ অবস্থায় প্রতিপক্ষের সার্ভ ভেঙে সেট নিজের করে নেন তিনি। তৃতীয় সেটেও একই কৌশলে বাজিমাত। ৩-৩ থেকে নাভোনের সার্ভ ভেঙে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সেট জিতে নেন জোকোভিচ। জয় থেকে তখন তিনি ছিলেন মাত্র এক সেট দূরে। তবে চতুর্থ সেটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন ২৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন। ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে সমতা ফেরান নাভোনে। নির্ধারণী পঞ্চম সেটে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি জোকোভিচ। ৬-১ ব্যবধানে হারেন শেষ সেট। হারের প্রতিপক্ষকে হাসিমুখে অভিনন্দন জানালেও সেই হাসি বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি জোকোভিচ। কোর্ট ছাড়ার সময় আবেগ সামলাতে না পেরে চোখের জলে ভেসে যান তিনি।

দর্শক সারিতে বসে থাকা স্ত্রী জেলেনাকেও দেখা যায় বিচলিত অবস্থায়। এই জয় নাভোনের ক্যারিয়ারে অন্যতম বড় এক অর্জন হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪৯ নম্বরে থাকা এই আর্জেন্টাইন এর আগে ইউএস ওপেনে কখনো দ্বিতীয় রাউন্ডের বেশি এগোতে পারেননি। অথচ এবার প্রথম রাউন্ডেই তার সামনে পড়েন টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়, আর সেই মহাতারকাকে হারিয়েই বিশ্ব টেনিসে নিজের নাম নতুন করে লেখালেন নাভোনে।